প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: সিলেটের বিশ্বনাথের দৌলতপুরের এক যুক্তরাজ্য প্রবাসীর বেদখল হওয়া ঘর উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪জুলাই) সকালে বিশ্বনাথ থানা কম্পাউন্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতিতে বৈঠকে দু’পক্ষের দলিলপত্র পর্যালোচনা করে তালাবদ্ধ ঘরের চবি প্রবাসী শাহেদ খানের ভাই কয়েছ খানের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
থানার বৈঠক শেষে দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে দু’পক্ষের লোকজনসহ উপস্থিত সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

সাালিশ ব্যক্তিত্ব ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, দৌলতপুরের তোরণ খান ও প্রবাসী শাহেদ খানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই জেরে প্রবাসী শাহেদ খানের দু’টি আধাপাকা বসতঘর(দৌলতপুর মৌজার ৭৮১ নং খতিয়ান (বিএস) ও ৬৯৭১ নং দাগের ১৬শতক জায়গা) দখল করেন তোরণ খানসহ তার পক্ষের লোকজন।
এ নিয়ে প্রবাসী শাহেদ খানের ভাই কয়েছ খান থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ প্রতিপক্ষের একজনকে গ্রেপ্তার করে। আর তালাবদ্ধ থাকা ঘরের চাবি উভয় পক্ষের নিকটাত্মীয় আশরাফুল ইসলাম খান সুহেলের কাছে দেন। এরপর স্থায়ী সমাধান দিতে থানার ওসি শামীম মুসা উভয় পক্ষকে নিজ নিজ দলিলপত্র নিয়ে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। এতে উভয় পক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের শরনাপন্ন হন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে দু’পক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদের উপস্থিতিতে আপোষের মাধ্যমে থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. শামীম মূসা বিরোধকৃত এ ভূমি ও তালাবদ্ধ ঘরের চাবি প্রবাসী শাহেদ খানের ভাই কয়েছ খানের হাতে তুলে দেন।
থানা কম্পাউন্ডের বৈঠকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সম্পাদক মকদ্দছ আলী, সালিশ ব্যাক্তিত্ব আবুল কালাম, সমাজসেবক আশরাফুল ইসলাম খান সোহেল, কৃষকলীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ, প্রবীণ মুরব্বী মনির খান, আলমগীর হোসেন, তজম্মুল খান, মতিন খান, আনোয়ার খান, আনহার খান, রোহেল খান, মনির আলীসহ দৌলতপুর এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গরাও উপস্থিত ছিলেন।

এব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই দৌলতপুরে প্রবাসীর বাড়ি ও বাড়ির জায়গার মালিকানা নিয়ে নিয়ে বিরোধ চলছিল। আজ থানা পুলিশের মধ্যস্থাতায় এ বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে।
এ ব্যপারে বিশ্বনাথ থানার ওসি শামীম মুসা বলেন, ঘরের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে তোরণ খান পক্ষ তালা দিয়ে প্রবাসী শাহেদ খানের বসত ঘরসহ দু’টি ঘর দখল দখল করেন। শাহেদ খানের ভাই কয়েছ খান থানায় অভিযোগ করলে থানা পুলিশ তালার চাবি উদ্ধার করে উভয়পক্ষের নিকটাত্মীয় একজনের কাছে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার জায়গার দলিলপত্র দেখে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ও উভয়পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে ঘরের প্রকৃত মালিক শাহেদ খানের ভাই কয়েছ খানের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়া হয়েছে।
