প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: ইদানিংকালে বিশ্বনাথের বিভিন্ন প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষক স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গমণের ফলে উপজেলার অনেক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান চরম ভাবে বিগ্ন ঘটেছে এবং এনিয়ে বিশ্বনাথের প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ খুবই চিন্তিত বলে জানা গেছে, খবরটি পাওয়া যায় একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র থেকে।
জানা যায়, বিশ্বনাথের একাধিক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক দক্ষ শিক্ষকরা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন এবং অনেকে আবার স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে পাড়ি জমানোর প্রচেষ্ঠায় রয়েছেন।
সূত্রটি আরো জানান, যদি এভাবে শিক্ষকরা যুক্তরাজ্য পাড়ি জমানো অব্যাহত রয় তাহলে বিশ্বনাথের অনেক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান ধ্বংশের ধার প্রান্তে চলে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুর রাজ্জাকের কাছে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আপনাদের কোন নিয়ত্রণ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কোন নিয়ত্রণ নেই, মাত্র আমরা শুধু তাদেরকে বই গুলো দিয়ে থাকি।
এদিকে বিশ্বনাথ ক্যামব্রীয়ান স্কুল এন্ড কলেজের প্রিন্সিপাল দুলাল আহমদ জানান, একজন শিক্ষক ক্লাশে এডজাস্টমেন্ট হতে হলে কম হলেও ছয় মাস সময় লাগে । কিন্তু যখন হঠাৎ যখন একজন শিক্ষকের জায়গা খালি হয়ে যায়, তখন এ জায়গাতে আরোও একজন এডজাস্টমেন্ট করতে আরো ছয় মাস সময় অপেক্ষা করতে হয়।
প্রিন্সিপাল দুলাল আরোও জানান, যে সব শিক্ষকরা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন তাদের ভবিয্যতটা কি? সে দেশে গিয়ে তারা কোন অবস্হানে থাকবে? যদি তারা এ বিষয়টি বুঝতো তাহলে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার জন্য তারা এত উম্মাদ হতো না।
অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বনাথের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়েরও কিছু কিছু শিক্ষকরা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার এমন সুযোগ গ্রহণে তারা প্রচেষ্ঠায় লিপ্ত রয়েছেন।
বিশ্বনাথের যে সব প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষকরা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্য গেছেন এবং যাচ্ছেন, সূত্র মতে এসব প্রতিষ্ঠান গুলো হলো –
বিশ্বনাথ ক্যামব্রীয়ান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে তিন জন শিক্ষক ও দুইজন শিক্ষিকা,
বিশ্বনাথ মেরিট কেয়ার স্কুল এন্ড কলেজ থেকে দুই জন শিক্ষক,
বিশ্বনাথ মর্নিংস্টার স্কুল থেকে দুইজন শিক্ষক,
বিশ্বনাথ লেচু মিয়া স্কুল থেকে দুই জন শিক্ষক,
বিশ্বনাথ হেজাজ ইংলিশ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষক,
কিছু বিজ্ঞ লোকজন বলেন, লেখাপড়া করে এদেশে থেকে কি করবে? কারণ এ দেশে সকল নাগরিকের অর্থনৈতিক কোন নিশ্চয়তা নেই।
সরকার একেক নাগরিককে একেক রকম সুবিধা দিয়ে থাকে এবং কিছু নাগরিকের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা আছে এবং বেশির ভাগ নাগরিকের নাই!
তারা জানান, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ডাবল বেতন ভাতা করলো সরকার কিন্তু প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর শিক্ষকদেরকে সরকার এক টাকা দেয় না! এমনকি করোনাকালীণ সময়ে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বেতন প্রদান করতে পারেনি, এক্ষেত্রে সরকারও কোন মানবতা দেখায় নি! তাহলে তারা প্রবাসে যাবে না তে কি করবে? তারা খুবই রেগে বলেন, সুযোগ পেলে এদেশ থেকে পলায়ন করা দরকার।
অন্যদিকে ইদানিংকালে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে গমণ বিশ্বনাথের এক ছাত্র লন্ডন সিটি থেকে জানান, মূলত আমি ও আমার মত অনেকেই স্টুডেন্ট ভিসার নাম ধরে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্য গমণ করেছি কিন্তু লক্ষ্য কিন্তু উচ্চ শিক্ষা নয়, আমাদের লক্ষই হলো রোটি রুজি এবং সে দেশে স্হায়ী বাসিন্দা হওয়া।
জৈনক এই ছাত্র বলেন, আসলেই কি স্হায়ী বাসিন্দা হওয়া যাবে? এই পেরেসানিতে অস্থির আমি! পিতা মাতা ভাই বোন অনেক বড় আশা নিয়ে আমাকে বিলেতে পাঠিয়েছেন, কিন্তু কতটুকু আশা আমি পূর্ণ করতে পারব এই ভাবনায় এখন আমার চোখে ঘুম আসেনা।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ল এবং দর্শন বিষয়ে এম এ পাশ করে এসেছি স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যে,
এসে গত তিন মাস থেকে একটি বাংলাদেশী রেষ্টুরেন্টে কাজ ধরেছি। আমার কাজের সময় দিন এগারোটা থেকে দুপুর একটা এবং বিকেল চারটা থেকে রাত একটা। এরপরে সাপ্তাহে তিন দিন ক্লাশে যেতে হয়, তিনি বলেন, দেশে থাকতে খেয়েছিলাম পিতার হোটেলে আর এখন খাচ্ছি নিজের হোটেলে।
নিজের সব কাজ নিজেই করতে হয় রান্নাবান্না সহ, এরপর রেষ্টুরেন্টের মালিক ও সহকর্মীদের আচরণে মন খারাপ! পরিশেষে তিনি বলেন, আমি যুক্তরাজ্যে স্হায়ী হতে পারবো কি না? এই দুশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
দেশে থাকতে কি ভাবে যুক্তরাজ্যে আসা যায় এই ভাবনায় ছিলাম অধির! এখন যুক্তরাজ্যে আসার পর কি ভাবে আমি এদেশে স্হায়ী হওয়া যায়, এই চিন্তায় আমি বেহুশ।
যুক্তরাজ্যের মানচেষ্টার থেকে একজন স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাজ্যেে।এসেছেন এমন এক ছাত্র জানান, আমার লাইফ শেষ! বাংলাদেশে জন্ম হলো একবার এবং যুক্তরাজ্যে গমণের পর জন্ম হলো আরেকবার!
সব কিছু নতুন এবং সব কিছুই অপরিচিত! মনে করেছিলাম স্টুডেন্ট ভিসায় যখন যাচ্ছি উচ্চ শিক্ষার জন্য তাহলে যুক্তরাজ্য বলে বিষয় অনেক বড় একটা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছি এর ক্যাম্পাস থাকবে বিশাল বড়!
সে বলে হায়রে হায় আমার ওই কলেজটা দেখি গিয়ে একটি দোকানের উপরে, মাত্র তিন রুম নিয়ে একটি কলেজ! দেশে আমি এম সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি এস এস পাশ করে আসলাম বিশাল একটি বিশ্ববাদ্যালয় থেকে! কাজ করি এক রেস্টুরেন্টে বিকেল তিনটা থেকে রাত একটা।
ব্রার্ডফোট থেকে একজন ছাত্র বিশ্বনাথের সে বলে আমি দেশে অনার্স পাশ করে আসছি রঙ্গিন জীবনের জন্য যুক্তরাজ্যে! কিন্তু বর্তমানে আমার বাংলাদেশও নেই স্হান আর যুক্তরাজ্যে কি ভাবে স্হায়ী হওয়া যাবে?
যুক্তরাজ্যের রসডেল থেকে থেকে একজন ছাত্র বলেন, আমি এগারো বৎসর পূর্বে যুক্তরাজ্যে এসেছি স্টুডেন্ট ভিসায় এম এ পাশ করে কিন্তু শাদিও করি নাই, অনেক কেইসও করেছি উকিলও ধরেছি কিন্তু স্হায়ীত হতে পারলাম না! আমার লাইফ শেষ!
বাংলাদেশের কিছু সচেতন লোকজন জানান, বাংলাদেশের অধিকাংশ মেধাবিরা বাহিরে চলে যাচ্ছে এদেশ মেধা সংকটে পড়বে ভবিয্যতে এ থেকে উত্তরণের পথ বাহির করতে হবে এদেশ বাসীকে।
