দেশে আজ কি হাহাকার,
চারিদিকে শুধু ভয়ার্ত মানুষের চিৎকার ।
এক মুঠো ভাত চাই,
পরনে কাপড় চাই,
বাঁচার জন্য চাকরি চাই ।
ভাত কাপড়ের এই চিৎকার কেন ?
নিশ্চয়ই বাঁচার তাগিদে এই দাবী,
সবাই বাঁচতে চায় এ সুন্দর ধরণীতে ।
দেশ আজ শতেক দল,
শহর-বন্দর কলেজ প্রাঙ্গণে,
খন্ড খন্ড মিছিল হয়,
মিছিলে মিছিলে স্লোগান শুনি –
ভাত দে, কাপড় দে, নইলে গদি ছেড়ে দে,
স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক ।
নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে,
মিছিলে ঐ স্লোগান উঠে ।
এই স্লোগানে কে শুনে ?
ক্ষমতাসীনদের কানে তুলো ।
রাজনীতি আজ হরেক রকম,
সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ ।
নীতি-আদর্শ নিপাত যাক ।
কোন নীতির বালাই নেই,
নেতা হওয়াই খায়েশ তাদের ।
নেতা –
কে হবে …?
আমিই হব …।
যোগ্যতা থাকুক আর নাই থাকুক,
গায়ে মানুক আর নাই মানুক,
আমাকে নেতা মানতে হবে ।
পল্টনে আর কোট পয়েন্টে,
ছোট বড় জনসভায়,
বড় বড় বুলি শুনি ।
বক্তৃতা আর কাজের সাথে,
নেই তার কোন মিল ।
তবুও তারা দেশের নেতা ।
বারে বারে তারাই শুধু,
নিজের স্বার্থে দল ভাঙ্গে ।
সবাই তখন অবাক হয়ে,
তাদের দিকে চেয়ে রই ।
বিবৃতি আর সাক্ষাৎকারে,
নীতি আদর্শের কথা বলে ।
আদর্শে ব্যাঘাত হলে,
শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চায় ।
৪৮ থেকে ৮৮ চার যুগ বা ৪০ বছর,
এই সময়ের ইতিহাস স্মরণীয়-বরণীয় ।
বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন,
উনসত্তরের গণ আন্দোলন,
একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম,
ত্রিশ লক্ষ মানুষের আত্মদান,
রক্তে ভেজা সবুজ ঘাস,
মোদের বিপ্লবী পতাকা,
একটি মানচিত্র, একটি দেশ,
তার নাম বাংলাদেশ ।
স্বাধীনতা এলো, মুক্ত হলো বাংলা,
তবুও কেন আজ এত হাহাকার ।
নিপীড়ন ও বঞ্চনার ইতিহাস,
ক্রমে ক্রমেই তার পরিধি হচ্ছে ব্যাপৃত ।
শোষণ ও শাসকদের অবাধ বিচরণ,
আজও তার অন্ত নেই ।
এককালে যোগ্য নেতৃত্ব ছিল,
কিন্তু আজ তারা ইহজগতে নেই ।
কিন্তু তাদেরকে কি মোরা স্মরণ করি ?
নিশ্চয়ই না, কালের স্রোতে ভেসে চলেছি,
তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে –
এক অভিনব পথে যাত্রা করছি ।
শান্তি শান্তি বলে চিৎকার করে,
আন্দোলনে মেতে উঠি ।
সুবিধাবাদীরা কেটে যায়,
আন্দোলনে ভাটা পড়ে ।
তবু রাজপথে যারা টিকে থাকে,
সত্যি কি তারা দেশকে ভালোবাসে ।
