ভাত চাই কাপড় চাই বাঁচার মত বাঁচতে চাই – ম আ মোশতাক


দেশে আজ কি হাহাকার,

চারিদিকে শুধু ভয়ার্ত মানুষের চিৎকার ।

এক মুঠো ভাত চাই,

পরনে কাপড় চাই,

বাঁচার জন্য চাকরি চাই ।

ভাত কাপড়ের এই চিৎকার কেন ?

নিশ্চয়ই বাঁচার তাগিদে এই দাবী,

সবাই বাঁচতে চায় এ সুন্দর ধরণীতে ।

দেশ আজ শতেক দল,

শহর-বন্দর কলেজ প্রাঙ্গণে,

খন্ড খন্ড মিছিল হয়,

মিছিলে মিছিলে স্লোগান শুনি –

ভাত দে, কাপড় দে, নইলে গদি ছেড়ে দে,

স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক ।

নিশ্চয়ই ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে,

মিছিলে ঐ স্লোগান উঠে ।

এই স্লোগানে কে শুনে ?

ক্ষমতাসীনদের কানে তুলো ।

রাজনীতি আজ হরেক রকম,

সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ ।

নীতি-আদর্শ নিপাত যাক ।

কোন নীতির বালাই নেই,

নেতা হওয়াই খায়েশ তাদের ।

নেতা –

কে হবে …?

আমিই হব …।

যোগ্যতা থাকুক আর নাই থাকুক,

গায়ে মানুক আর নাই মানুক,

আমাকে নেতা মানতে হবে ।

পল্টনে আর কোট পয়েন্টে,

ছোট বড় জনসভায়,

বড় বড় বুলি শুনি ।

বক্তৃতা আর কাজের সাথে,

নেই তার কোন মিল ।

তবুও তারা দেশের নেতা ।

বারে বারে তারাই শুধু,

নিজের স্বার্থে দল ভাঙ্গে ।

সবাই তখন অবাক হয়ে,

তাদের দিকে চেয়ে রই ।

বিবৃতি আর সাক্ষাৎকারে,

নীতি আদর্শের কথা বলে ।

আদর্শে ব্যাঘাত হলে,

শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চায় ।

৪৮ থেকে ৮৮ চার যুগ বা ৪০ বছর,

এই সময়ের ইতিহাস স্মরণীয়-বরণীয় ।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন,

উনসত্তরের গণ আন্দোলন,

একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রাম,

ত্রিশ লক্ষ মানুষের আত্মদান,

রক্তে ভেজা সবুজ ঘাস,

মোদের বিপ্লবী পতাকা,

একটি মানচিত্র, একটি দেশ,

তার নাম বাংলাদেশ ।

স্বাধীনতা এলো, মুক্ত হলো বাংলা,

তবুও কেন আজ এত হাহাকার ।

নিপীড়ন ও বঞ্চনার ইতিহাস,

ক্রমে ক্রমেই তার পরিধি হচ্ছে ব্যাপৃত ।

শোষণ ও শাসকদের অবাধ বিচরণ,

আজও তার অন্ত নেই ।

এককালে যোগ্য নেতৃত্ব ছিল,

কিন্তু আজ তারা ইহজগতে নেই ।

কিন্তু তাদেরকে কি মোরা স্মরণ করি ?

নিশ্চয়ই না, কালের স্রোতে ভেসে চলেছি,

তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে –

এক অভিনব পথে যাত্রা করছি ।

শান্তি শান্তি বলে চিৎকার করে,

আন্দোলনে মেতে উঠি ।

সুবিধাবাদীরা কেটে যায়,

আন্দোলনে ভাটা পড়ে ।

তবু রাজপথে যারা টিকে থাকে,

সত্যি কি তারা দেশকে ভালোবাসে ।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *