“ভূমি জালিয়াতির দায়ে সুনাগঞ্জের দিরাইয়ে ৩ব্রিটিশ সিটিজেনের উপর মামলা”


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম লন্ডন প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ খান সুমেদ :: ইংল্যান্ড থেকে দুর্নীতি,প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ভূমি রেজিষ্ট্রি করায় সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ব্রিটিশ সিটিজেনদের উপর মামলা করা হয়েছে।

সুনামগন্জ জেলার দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের অন্তর্গত রাজনগর গ্রামের তিনজন ব্রিটিশ সিটিজেন আব্দুল হালিম,ছুরত মিয়া ও রফিক মিয়া সহ মোট জালচক্র এগারজনের বিরুদ্ধে সুনামগন্জ স্পেশাল জজ আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে ২০০৪ এর তপশীলভূক্ত দ্যা পেনাল কোডের ১২০বি/৪২০ /৪৬৭ /৪৬৮/ ১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ১৯৪৭এর ৫(২) ধারার অপরাধে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলার আসামী আসামি হচ্ছেন ১/ আব্দুল হালিম,ইংল্যান্ড প্রবাসী ২। মোঃছুরত মিয়া,ইংল্যান্ড প্রবাসী
৩। মোঃরফিক মিয়া,ইংল্যান্ড প্রবাসী, ৪। মোঃ সুনু মিয়া, ৫। মালেছা বিবি, ৬। ছালেছা বিবি সর্বসাং রাজনগর, দিরাই ,সুনামগন্জ, ৭। ছালেমা বিবি,গ্রাম ছিলাউরা,জগন্নাথপুর,সুনামগন্জ, ৮। সৈয়দ আনছার আলী, গ্রাম – তারাপাশা, দিরাই, সুনামগন্জ, ৯। আমিরুল ইসলাম ,গ্রাম-চিলাউড়া,জগন্নাথপুর,সুনামগন্জ, ১০। মোঃরাজা মিয়া,গ্রাম-রাধানগর,দিরাই,সুনামগন্জ, ১১। আব্দুল বাতেন,সাব-রেজিষ্টার দিরাই,জেলা-সুনামগন্জ।

ঘটনার সময় ৩০/০৪/২০১৯ইং তারিখে অফিস চলাকালীন দিরাই সাব-রেজিষ্টার অফিসে একটি ৭৩২/১৯ আরেকটি ৭৩৩/১৯ দলিল দুটি রেজিষ্ট্রি হয়। দুটি দলিলের গ্রহিতা ওরফে বইতল লন্ডনী আব্দুল হালিম,ছুরত মিয়া ও রফিক মিয়া দলিল রেজিষ্ট্রি কালীন সময়ে উপস্হিত ছিলেন না।

বিশেষ করে প্রতারক আসামী সুনু মিয়া ও আনছার মিয়াসহ সকল আসামী বিষয়টি জেনেও পরস্পর যোগাযোগী মূলে অন্যায় লাভবান হওয়ার স্বার্থে এবং দরখাস্তকারী আলমগীরের বিরাট ক্ষতিগ্রস্হ করার জন্য অপরাধমূলক ষড়যন্রে লিপ্ত হয়ে জাল জালিয়াতি ও প্রতারণার আশ্রয়ে দলিল লেখক রাজা মিয়া ও সাব-রেজিষ্টার আব্দুল বাতিনের সহযোগীতায় ঘটনার সময় ও তারিখে আসামী প্রতারক আব্দুল হালিম,ছুরত মিয়া ও রফিক মিয়া উপস্হিত থেকে বর্ণিত দলিল দুটিতে টিপসহি/স্বাক্ষর দিয়েছেন বলে দেখানো হয়েছে।

বর্ণিত দলিল দুটির দাতা আসামী ছালেছা বিবি মামলার ঘটনার আগেই দলিল দুটিতে বর্ণিত সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ উনার টাকার প্রয়োজনে দরখাস্তকারীর আপন ভাই ইংল্যান্ড প্রবাসী রুবেল আহমদ দেশে ছুটিতে থাকা কালীন সময়ে ০৫/১২/২০১৮ইং তারিখে ২১৪৪নং রেজিষ্ট্রি দলিল মূলে বিক্রি করে হস্তান্তর করেন যাহা দরখাস্তকারীর পরিবার আগে থেকেই ভোগ দখলে ছিল।

যে সম্পত্তি আগেই বিক্রি করে হস্তান্তর করেছেন সেই সম্পত্তি আবার ছালেছা বিবি জালচক্রের সদস্য আসামী বইতল লন্ডনী আব্দুল হালিম গং সহ আসামী প্রতারক সুনু মিয়া ও আনছার মিয়ার কুপরামর্শে আসামী ছালেছা বেগমকে ফাদে ফেলে ২১৪৪নং দলিল গ্রহিতা রুবেল আহমদের পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং তাদের বাড়ী ঘর দখলে নিতে পূনরায় আর দুটি দলিল বর্ণিত ৭৩২/১৯ও৭৩৩/১৯ আসামী দলিল লেখক রাজা মিয়ার সহযোগীতায় সম্পাদিত হয় যাহা বাংলাদেশী আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।

এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করে জানা যায় আসামী ইংল্যান্ড প্রবাসী আব্দুল হালিম ও ছুরতের যৌথ পরিচালনায় গ্রামের বিভিন্ন লোকের জায়গা দখল ও গ্রামের নিরীহ মানুষের সাথে অন্যায় অত্যাচারে লিপ্ত হয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে আসামীদের বড় ভাই কখ্যাত সন্রাসী ছালিক মিয়া ও তার সন্রাসী ছেলেরা।

তদের অত্যাচারে গ্রামের মানুষ আতংকে দিনযাপন করিতেছে। গ্রামের মুরুব্বিদের জিঙ্গেস করে জানা যায় দলিল দাতা আসামী মালেছা বিবি,ছালেছা বিবি ও ছালেমা বিবি দরখাস্তকারী আলমগীর হোসেনের সম্পর্কে আপন ফুফু। তাদের বিয়ের পর সম্পূর্ণ সম্পত্তির ভোগ দখলে ছিলেন দরখাস্তকারীর পিতা মাহমদ আলী।

পিতার মৃত্যুর পর প্রায় ১৪বছর যাবত দুটি দলিলে দেখানো হস্তান্তরিত সকল ভূমির দখলে আছে দরখাস্তকারী আলমগীর ও তার পরিবার। বর্ণিত ৭৩২/১৯ ও৭৩৩/১৯ দলিলে যে ২৫ বছরের একই রকম বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে তাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বনোয়াট এবংবর্ণিত দুটি দলিলে যে পরিমান সম্পত্তি হস্তান্তরিত দেখানো হয়েছে সেই পরিমান সম্পত্তিতে দাতাদের মালিকানা নেই দখলে ও নেই। দলিল দুটির সম্পত্তির চৌহাদ্দা বর্ণনায় ও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে যাহা ছিল প্রতারকদের নিতান্তই ষড়যন্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ঘটনার তারিখে আসামী প্রতারক ,দুর্নীতিবাজ আব্দুল হালিম, ছুরত মিয়া ও রফিক মিয়া দেশে না থাকলে ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোন কোন আসামী বিশেষ করে প্রতারক সুনু মিয়া ও আনছারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সহযোগীতায় অপরাধমূলক ষড়যন্রে লিপ্ত হয়ে এবং অন্যান্য আসামী এই ষড়যন্রে সহায়তা করে প্রতারণা,দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে দরখাস্তকারী আলমগীর হোসেন ও তার পরিবারের সম্পত্তি আত্থসাথে মিথ্যা দলিল সৃজন করেন।

দরখাস্তকারীর আবেদন ও নথি দেখে পর্যলোচনা করে মাননীয় আদালত ফৌজদারি কার্যবিদি ২০০ ধারার বিধান মতে দরখাস্তকারীর জবান বন্দি হলফান্তে গ্রহণ করলেন। নথিসহ দাখিলী কাগজাদি পর্যালোচনা করে দরখাস্তে বর্ণিত অভিযোগ গুরতর উল্লেখ করে শ্পেশাল মামলা হিসাবে রেজিষ্ট্রি ও নম্বরভূক্ত করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ,২০০৪-এর ২০(১) ধারা মোতাবেক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এ আদেশের অনুলিপিসহ মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন সম্বলিত জেলা কার্যালয় ,সিলেট বরাবরে প্রেরনের নির্দেশ দেন।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *