প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম আমেরিকার লস এঞ্জেলেস প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়াঃ আমেরিকার লস এঞ্জেলেস শহরে বসবাসরত জালালাবাদ অঞ্চলের তিন জন বীর মুক্তিযুদ্ধা। শ্রদ্ধা জানাই সকল মুক্তিযুদ্ধাদের। বিজয় দিবস , আসে আর যায় প্রতি বছর। আসলে মুক্তিযুদ্ধের মহান তেয়াগের ফসল আজকের বাংলাদেশ।
মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
গ্রাম >> কসবা
থানা >> বিয়ানিবাজার
সিলেট
যুদ্ধের সময় সিলেট এম, সি, কলেজের ছাত্র বি এস সি পরীক্ষার্থী। দেশকে শত্রুমুক্ত করার মানষিকতা নিয়ে ছুটে যান আসামের লোয়ার হাফ্লং ট্রেনিং কেম্পে। প্রায় ১২০০ শত মুক্তিযুদ্ধা সাধারন ট্রেনিং নেন ছয় সপ্তাহ। তারপর এডভানস ট্রেনিং এর জন্য ৯০ জন বাছাই করা হয়।
তার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধা হান্নান একজন। শিলচরের দুয়ার বন্দ মুক্তিযুদ্ধা কেম্পে তিন সপ্তাহ এডভানস ট্রেনিং গ্রহন করেন। সকল প্রকার ট্রেনিং ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনির দ্বারা প্রশিক্ষন গ্রহন করেন।
চার নাম্বার সেক্টরের মেজর সি আর দত্ত কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধা হান্নান ঐ সেক্টরর যুদ্ধা। যাই হোক শেষ পর্যন্ত উনি শত্রুদের মোকাবেলা করার জন্য প্লাটুন কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ত গ্রহন করেন।

মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক
গ্রাম >> মেওয়া
থানা >> বিয়ানিবাজার
সিলেট।
মুক্তিযুদ্ধা মালিক ভাই তখন ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র। দেশকে স্বাধীন করার জন্য আগরতলার বেরুবারির ইন্ডিয়ান সেনাকেম্পে এবং আসামের তেজপুর ইন্ডিয়ান সেনাকেম্পে গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষন গ্রহন করেন।
তিন নাম্বার সেক্টরের কমান্ডার কেপ্টেন মহিউদ্দিন ছিলেন। তিন নাম্বার সেক্টরে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মঞ্জুরুল আহসান খান, মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম সহ আর ও অনেক ছিলেন।

মুক্তিযুদ্দা খাইরুল ইসলাম চৌধুরী ( লুকু )
গ্রাম>> মোল্লা পুর
থানা >> বিয়ানিবাজার
সিলেট
মুক্তিযুদ্ধা লুকু ভাই এস এস সি পরিক্ষা শেষ করেন। প্রশিক্ষন নেওয়ার জন্য আসামের লোয়ার হাফ্লং ইন্ডিয়ান সেনাকেম্পে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন। চার নাম্বার সেক্টরের উনিও একজন যুদ্ধা। মেজর সি আর দত্ত কমান্ডার ছিলেন।
সাহস এবং দক্ষতার সাথে বিভিন্ন গেরিলা যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে দেশ ও জাতিকে শত্রুমুক্ত করেন।
উল্ল্যেখ্য, এই তিন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমাদের কম্যুনিটির সাথে জড়িত, তাদের সাহায্য-সহযোগিতা সব সময়ই আমরা পেয়ে আসছি।উনারা তিন জনই জালালাবাদ এ্যাসোসিয়েশনের উপদেস্টা মন্ডলির সদস্য।
আসুন বন্ধুরা আমরা নিজ নিজ এলাকার এবং পরিচিত মুক্তিযুদ্ধাদের নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরি এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার চেস্টা করি। পরিশেষে ইহাই বলবো মুক্তিযুদ্ধারা আমাদের অহংকার।
