এই দুই জঙ্গির বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করার পর আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আনসার আল ইসলামের অন্যতম শীর্ষ নেতা সৈয়দ জিয়াউল হক (যিনি মেজর জিয়া নামে পরিচিত) ও তাঁর সহযোগী আকরাম হোসেন নতুন করে আলোচনায় আসেন।
এদিকে মার্কিন ঘোষণার বিষয়ে পুলিশ বলছে, পুরস্কার ঘোষণার আগেও এই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ছিল, এখনো সেটা অব্যাহত আছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, দণ্ডিত পলাতক দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করা গেলে আইনের আওতায় আনা হবে।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার মতাদর্শের অনুসারী আনসার আল ইসলামের (আগের নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সামরিক শাখার প্রধান মেজর জিয়া। এর আগে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া আনসার আল ইসলামের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জিয়া সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তখন জানা গিয়েছিল, জিয়া এক জায়গায় বেশি দিন থাকেন না। জিয়া রাজধানী বা এর আশপাশে অবস্থান করতেন বলেও বিভিন্ন সময়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে ২০১৭ সালের পর তাঁর অবস্থানের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আর আকরাম হোসেনের বিষয়ে খুব বেশি তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আকরাম হোসেন ওরফে আবীর আনসার আল ইসলামের আসকারি সদস্য (জঙ্গিদের কথিত গোয়েন্দা শাখার সদস্য)। তিনি ঢাকা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকায় তাঁর পরিবার থাকে। অভিজিৎ রায়কে হত্যার সময় অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে জিয়া ও আকরাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। হামলায় আহত হন অভিজিতের স্ত্রী রাফিদা আহমেদ। অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। আসামিদের চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। জিয়া ও আকরাম পলাতক।
