প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: আমি যে বিল্ডিং-এ থাকি, এখানে প্রায় ৭৫টি পরিবার থাকে।ভাগ্য ভালো যে নিচতলায় থাকি, এলিভেটর নিতে হয় না।লকডাউনের পর থেকে আমরা জানালাও খুলি না। মনে হয়, জানালা খুললেই ভাইরাস ঢুকে যাবে।আমাদের বাসাটা একদম মেইন রোডের উপরে, এ্যাম্বুলেন্স এর শব্দ সকাল-বিকালই শুনতে হয়। লকডাউন হওয়ার পর থেকে আর এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ খুব একটা শোনা যায় না।
আমি আমার পরিবারের সাথে আলোচনা করলাম যে, তাহলে হয়তো আমাদের বিল্ডিং বা আশেপাশের বিল্ডিং নিরাপদ আছে।গত সপ্তাহে, বুধবার রাত ১১টার দিকে জানালার পর্দা সরিয়ে আম্মু আমাকে ডেকে দেখালো, আমাদের বাসার সামনে এ্যাম্বুলেন্স!
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এ্যাম্বুলেন্স আসার কোন শব্দ আমরা পাইনি।আম্মুকে জিজ্ঞেস করলাম- ‘শব্দ হয়নি, বুঝলেন কিভাবে?’
আম্মু বললো, ‘হঠাৎ চোখে লাল আলোর ঝলকানি লাগলো!’
ঐদিন রাতে আর জানালার পর্দা নামালাম না। রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত প্রতি ঘন্টায় একটা করে এ্যাম্বুলেন্স আমাদের বাসার সামনে এসেছে সেই রাতে। আস্তে করে আসে, কোন শব্দ হয় না, শুধু লাল আলো দেখে বুঝা যায়।
ওরা আসে আর রোগী নিয়ে যায়। সেই রাতে আমরা কেউ ঘুমোতে পারলাম না।সকালে ৯ টার দিকে জানতে পারলাম, সাত তলায় একজন বাংলাদেশী করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে।পরে জানানো হয়েছে, তার পজেটিভ ছিল।
রাতে তো তাও বাইরে অন্ধকার থাকে, লাল আলো দেখে বুঝা যায়। দিনের বেলায় তো সেটাও বুঝা যায় না।
কখন ওরা আসে! কাকে নিয়ে যায়! রোগী নিচ্ছে নাকি লাশ নিচ্ছে, সেটাও বুঝার উপায় থাকে না।
আজকে গায়ে জ্বর আর প্রচন্ড মাথা ব্যথা নিয়ে যখন এটা লিখছি, আম্মু ডেকে বললো- ‘বাইরে এ্যাম্বুলেন্স’!শ্বাসকষ্ট রোধে মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে আমাদের বিল্ডিং থেকে একটা ১৬-১৭ বছরের মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছে ওরা! চুপি চুপি!


