প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের লিডস শহরে ঐতিহ্যবাহী রাধারমণ লোক উৎসবের আজ শনিবার দ্বিতীয় দিনেও ছিল আনন্দ মুখর অনুষ্টান। উৎসবের অন্যতম অতিথি বক্তা বাংলাদেশ থেকে গত বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, ক্যামেন আইল্যান্ডের সাবেক গভর্নর ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা আনোয়ার চৌধুরী, শ্যাডো আইনমন্ত্রী রিচার্ড বার্গন, শ্যাডো প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্যাবিয়ান হামিলটন এবং লিডস সিটি কাউন্সিলের নগর উন্নয়ন বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা সাইদ মাহমুদ, বাংলাদেশের বাহিরে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনারের স্বপ্নদ্রষ্টা বৃহত্তর ছাতক প্রবাসী সমিতি ওল্ডহ্যামের সভাপতি গতকাল থেকে আজ অবদি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে উপভোগ করে আসছেন।
অনুষ্টানকে নাচে গানে মাতিয়ে তুলছেন প্রতীচ্যে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের শীর্ষ শিল্পী ও অন্যতম প্রচারক বিদুষী চন্দ্রা চক্রবর্তী। লন্ডন থেকে গাইতে আসা ব্রিটেনে বাংলা লোকসংগীতের রাজকুমারী গৌরি চৌধুরী, সুফি আমির মোহাম্মদ, অমিত দে, লাবণী বড়ুয়া, জেসি বড়ুয়া, নন্দিতা মুখার্জি, শাহ ইয়াওর মিয়া, সাজ্জাদ মিয়া ও রাহেল চৌধুরী প্রমুখ।

রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা লোকসংগীত–বিষয়ক পরিবেশনা নিয়ে এসেছেন রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ডঃ ইমতিয়াজ আহমেদ। বাংলা লোকনৃত্যের বিচিত্র ও বর্ণিল সব পরিবেশনা নিয়ে আমেরিকা থেকে এসেছেন সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের প্রতিষ্ঠাতা রোজমেরি মিতু রিবেইরো ও আরও দুজন নৃত্যশিল্পী।
লন্ডন থেকে যোগ দিয়েছেন জনপ্রিয় লোকনৃত্যশিল্পী সোহেল আহমেদ ও সোনিয়া সুলতানা। কথা ও কবিতা পাঠে অংশ নিচ্ছেন কবি ডেভিড লি মরগ্যান, গাবি সাম্বুসিটি, জেনুমজ নাকভি, মাইক শেরিফ, আবদুল কুদ্দুস, জাহাঙ্গীর রানা, রব স্মিথ, রেভারেন্ড এমোস কাসবান্তে, নিশাত আফজা, মিলি বসু, ড. তপতী মুখার্জি ও তার দল দিগন্তিকা, কাউন্সিলর আসগর খান, কাউন্সিলর জেন ডাউসন, কবি তাহিরা রেহমান, নাদিম রাথুর, লোরা পট, শাহিন মিতুলি প্রমুখ।
প্রাচীন ইউরোপীয় সংগীতের এক অভিনব পরিবেশনা নিয়ে এসেছেন এরিক শিলান্ডার। প্রথিতযশা শিল্পীদের পাশাপাশি গাইতে এসেছেন জায়না ও অনন্যার মতো শিশু শিল্পীও। এবারের উৎসবে রাধারমণের গানের পাশাপাশি চলছে রেজিনাল্ড সেন্টারে দুরবিন শাহের গান ও মুরটাউন চার্চে বিলাতের প্রখ্যাত গীতিকবিদের লেখা গানের উপস্থাপনা।
কাল ২৮ জুলাই রোববার লিডস বাংলাদেশ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের সমাপনী পর্ব। এতে ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শক যোগ দিতে পারেন বলে আয়োজকেরা আশা করছেন।
বাংলাদেশ থেকে যোগ দেওয়া সাংসদ মুহিবুর রহমান বলেন, ‘আমি যারপরনাই অভিভূত এটা দেখে যে, আমাদের লোকসংগীত আজ বিশ্ব-দরবারেও সমানভাবে সমাদৃত হয়ে উঠছে। বাংলার লোক-সংস্কৃতিই আসলে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার উৎসবিন্দু। ফলে ৯ বছর ধরে চলমান এ রকম কোনো লোক উৎসব বহির্বিশ্বে আমাদের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে আমি মনে করি।’
উৎসবের কিউরেটর টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, ইয়র্কশায়ারডেলসের নয়নাভিরাম প্রকৃতির কোলে, হয় লেকের পারে বা অরণ্যের ভেতর বারবিকিউ করতে করতে একটা প্রাণোচ্ছল পরিবেশে বাংলা লোকগান পরিবেশনার ধারণা মূলত আমাদের এই মধুর সংগীতকে দূর–দূরান্তের দর্শক, বিশেষ করে এ দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটা অভিনব প্রচেষ্টার অংশ। প্রেমে ভক্তিতে টইটম্বুর আমাদের এই হৃদয়স্পর্শী লোকগান শুনে, আমাদের বর্ণময় লোকনৃত্য আর ইয়র্কশায়ারডেলসের প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য দেখে যদি বাড়ি ফেরার পথে মনে হয় বাহ, জীবন কী আনন্দময়, জীবন কত মহান, তাতেই সমস্ত প্রচেষ্টা একটা অর্থ খুঁজে পাবে।
