এক ঘণ্টার মধ্যেই ৩১ বছর বয়স্ক স্ত্রী ফাউজিয়া জাভেদকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ২৯ বছর বয়সের স্বামী কাশিফ আনোয়ারকে। হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে কাশিফ আনোয়ার বলেছেন, তিনি পিছলে স্ত্রীর গায়ে ধাক্কা লাগাড় কারণে তাঁর স্ত্রী পাহাড়ের উপর থেকে নীচে পড়ে গিয়েছিলেন।
ফাউযিয়ার পরিবার কখনও বিশ্বাস করেনি, দুর্ঘটনায় এই মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ফাউযিয়ার পরিবারের সদস্যরা এডিনবারা হাই কোর্টে এসে জুরিদের সিদ্ধান্ত শোনেন। জুরিরা আনোয়ারকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
এমপ্লয়মেনট বিষয়ক আইনজীবী ফাউযিয়া জাভেদ অনেক চ্যারিটি প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করেন। তার মধ্যে ছিল লীডসের এই চ্যারিটি। এখানে তিনি হোমলেসদের নিয়ে কাজ করেন।
কাশিফ আনোয়ার ছিলেন একজন স্টুডেন্ট অপটিশিয়ান, যখন ফাউযিয়া জাভেদের সাথে তাঁর প্রথম দেখা হয়। মাকে নিয়ে আই টেস্টে গিয়ে আনোয়ারের সাথে পরিচয় হয় ফাউযিয়ার। পরে ২০২০ সালের ক্রিসমাস দিবসে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। কাসিফ আনোয়ার অত্যাচার করতো ফাউজিয়ার ওপর। আদালতের শুনানিতে ফাউযিয়ার মা বলেন, ফাউযিয়া কোড ল্যাঙ্গুয়েজে ম্যায়ের সাথে টেক্সট করে তাঁর কষ্টের কথা জানাতো।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন স্বামী-স্ত্রী এডিনবারা বেড়াতে যান, তখন ফাউজিয়া ইতোমধ্যে মনে মনে ঠিক করে ফেলেছেন তিনি তালাক নিয়ে নেবেন। এসময় আনোয়ার তাঁর স্ত্রীকে বলেন, তিনি আরথার সীট পাহাড় দেখতে যেতে চান। হেঁটে পাহাড়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়। পাহাড় থেকে নেমে আসার পথে আনোয়ার যা করেছেন, সেই কাজকে এডিনবারা হাই কোর্টের বিচারক বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করেন। কারণ স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে তিনি অন্যদের এগিয়ে এসে সাহায্য করার অপেক্ষা করছিলেন।
রায় ঘোষণার দিনে আদালত কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নুনতম ২০ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি ঘোষণার পর আদালত থেকে যখন কাশিফ আনোয়ারকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন ফাউজিয়ার পরিবারের সদস্যরা উচ্চস্বরে আনোয়ারকে লক্ষ্য কোরে অভিশাপ দিচ্ছিলেন। ফাউযিয়ার এক চাচা জুরিদের তাদের রায়ের জন্য ধন্যবাদ জানান।
