প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী মহানায়ক শাহজাহান সিরাজ আর নেই (ইন্নাহলিল্লাহি ওয়া ইন্নাহ ইলাইহি রাজেউন), তিনির মৃত্যুতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল -জেএসডি (যুক্তরাজ্য)র শোক প্রকাশ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন মহান এই নেতার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগনের সাথে তারা ও খুবই ব্যাথিত হয়েছেন।
তিনি ছিলেন স্বাধীনতার রুপকার সিরাজুল আলম খানের ধারা প্রতিষ্টিত, নিউক্লিয়াসের সদস্য এবং এই নিউক্লিয়াসের নেতৃবৃন্দ প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ১০ বতসরের মধ্যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পূবে তারা কোন ধরনের ভোগ বিলাসের উর্ধ্বে থাকলেন । বাস্তবে ও হয়েছিল ও তাই।
মহান এই নেতা মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এভার কেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ১৯৭১ ইংরেজীতে তিনি ছিলেন অবিভক্ত ছত্রলীগের সাধারন সম্পাদক।

একাত্তরে মুক্তির সংগ্রাম দানা বেঁধে উঠতে থাকলে ১ মার্চ স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মণি, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আবদুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রবের মতো শাহজাহান সিরাজও ছিলেন এই পরিষদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
এর মধ্যে পরিষদের শীর্ষ চার নেতা— নূরে আলম সিদ্দিকি, শাহজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখনকে বলা হতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘চার খলিফা’। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্রনেতা আব্দুল কুদ্দুস মাখন মারা গেছেন। এর ফলে ‘চার খলিফা’র দুই খলিফাই পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।
একাত্তরের ১ মার্চ সংসদ স্থগিত হলে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন আ স ম আবদুর রব। ওই সময় সিদ্ধান্ত হয়, পরদিন পল্টনের ছাত্র জনসভায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ মার্চ পল্টন ময়দানের বিশাল ছাত্র জনসভায় বঙ্গবন্ধুর সামনে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছিলেন শাহজাহান সিরাজ।

পরে মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অন্যতম সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে তিনি মুজিব বাহিনীর পক্ষে লিয়াজোঁর দায়িত্ব পালন করেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গড়ে তোলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। সেই জাসদ বহু ভাগে বিভক্ত হলে একসময় যোগ দেন বিএনপিতে। সবশেষ দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বিএনপি সরকারের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী শাহজাহান সিরাজের জন্ম ১৯৪৩ সালের ১ মার্চ, টাঙ্গাইলের কালিহাতী। ষাটের দশকে ছাত্রলীগে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়। ওই সময় টাঙ্গাইল সাদত কলেজের ছাত্র সংসদে একবার সাধারণ সম্পাদক ও দু’বার ভিপি ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও নির্বাচিত হন।
স্বাধীন বাংলাদেশের সাথে এই নেতার নাম চিরদিন থাকবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত।মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,এক ছেলে ও এক মেয়ে ও অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন ।
বিস্বস্ত সূত্রে জানা গেছে ১৫ জুলাই বনানী কবর স্থানে তিনিকে সমায়িত করা হবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহূমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাতের সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। বিবৃতি দাতারা হলেন যথাক্রমে যুক্তরাজ্য জেএসডি সভাপতি আলহাজ্ব ছমির উদ্দিন,সাধারন সম্পাদক চৌধুরী শাহেদ কামাল টিটো,সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির,জেএসডি নেতা মির্জা আনসারুল হক,ভিপি হারুনসহ আর ও অনেকে।
