সাইফুল উদ্দিন চার বছর বয়স থেকে বিলেতে আছেন, সেই ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি তার আলাদা একটা টান। গান ভালো লাগা তারপর গানের প্রতি তার নেশা নেশা থেকে এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশে গান করেই চলেছেন এই শিল্পী। তিনি কুমার সানু, আলকা ইয়াগ্নিক হারিহারান, সুবীর নন্দী, শুভ্র দেব, কুমার বিশ্বজিৎ, রবি চৌধুরী, খালিদ হাসান, মিলু ডলি, শান্তনি, কনক চাপা, সনু নিগাম ও শাহনাজ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ ওদের সাথে গান করেছেন। জিটিভি, এশিয়া টিভি ও বাংলা টিভি চ্যানেল সহ অন্যান্য টিভিতে নিয়মিত গান করছেন। তাছাড়া তিনি ইন্ডিয়া, আমেরিকা, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালী, দুবাই এবং বাংলাদেশে গান করে বেড়াচ্ছেন। এ পর্যন্ত তার চারটি ক্যাসেট সিডি রয়েছে, উল্লেখ্য ইউরো-এশিয়া, সং কনটেস্টে সাইফুল উদ্দিন প্রথম হয়েছিলেন ৯৯ সালে, গানে গানে তিনি মানুষের সাথে পরিচিত এবং গানে ই তার ভালো লাগা।

প্রশ্নঃ আপনি কেন গান করেন?
উত্তরঃ গান হচ্ছে, মনের খোরাক এবং সংগীতকে মনে প্রানে ভালবাসি বলেই গান করি। সংগীতের মাধ্যমে অনেক ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব তাই গান গাই।
প্রশ্নঃ প্রবাসী বাঙালি হয়েও বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে আপনার নিবিড় যোগাযোগের পেছনে কি আপনাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ যোগায়?
উত্তরঃ প্রবাসী বাঙালি হয়েও আমার মূল জাত ও আমার সংস্কৃতি আমি ভুলতে পারি না। বাঙালি সংস্কৃতিকে ধরে রাখার গভীর ইচ্ছা আমাকে উৎসাহ দেয়।
প্রশ্নঃ আপনি প্রবাসী বাঙালি শিল্পী দেশের শিল্পীদের সঙ্গে আপনি কি কোন ধরনের প্রতিযোগিতা অনুভব করেন?
উত্তরঃ আমি শিল্পী আমার কাজ হচ্ছে আমার পক্ষে যতদূর সম্ভব আমার শিল্পী সত্তাকে বিলিয়ে দেয়া। প্রত্যেক মানুষ যেমন সমান নয়, তেমনি তার কোন কিছু করার ক্ষমতা সমান নয়। প্রত্যেকের ভালো ও খারাপ দিক আছে, তাই কেউ একটু বেশি ভালো করবে আর কেউ একটু কম ভালো করবে। তাই প্রতিযোগিতাকে আমি বিশ্বাস করি না আমাদের ক্ষমতা একমাত্র খোদার দান তাই এটাকে সমস্যা চিন্তা না করাই ভালো। তবে হ্যাঁ আমি আমার সাধ্যমত অবশ্যই চেষ্টা করব। যে যতদুর সম্ভব ভালো গান করার করবে।
প্রশ্নঃ একজন দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পী এখানে কোন অনুষ্ঠানে এলে সেই অনুষ্ঠানে অনুষঙ্গ হিসেবে আপনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়, আপনি আপনার এই মূল্যায়নকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
উত্তরঃ অবশ্যই আছে, একটি পজেটিভ প্রচেষ্টা, কারণ দেশি শিল্পীরা অন্তত অবগত হন যে, এখানে শিল্পীবৃন্দ রয়েছেন এবং সংস্কৃতি চর্চা হচ্ছে, আর খবর তখন বাংলার মাটিতে পৌঁছায়, আর এখানকার শিল্পীরা যদি ভালো পারফরমেন্স দিতে পারেন তবে তো সোনায় সোহাগা। আমার মতে এখানকার অনেক সংগীত শিল্পী এবং নাট্য শিল্পী রয়েছেন, যারা কোন অংশে বাংলাদেশের শিল্পীদের চাইতে কম নয়। তার প্রমাণ পেয়েছি কয়েকটি অনুষ্ঠানে, আমাদের এখানকার অর্গানাইজার যদি লন্ডনের শিল্পী দের কে নিয়ে ওরকম অনুষ্ঠান করেন, তবে এখনকার অনুষ্ঠানের মান আরো বাড়বে।
প্রশ্নঃ একজন শিল্পী হিসেবে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আপনার রয়েছে কঠিন দায় বদ্ধতা আপনি এই দায় বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন কি?
উত্তরঃ বাংলা সংস্কৃতি ছড়ানো বাঙালি শিল্পীদের দায়িত্ব প্রবাসের নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে সচেতনতা আনার দায়িত্ব আমাদের সবার রয়েছে। সে দিক থেকে আমি ও বাঙালি সংস্কৃতি প্রসারে পিছিয়ে থাকব না।
প্রশ্নঃ একজন কণ্ঠশিল্পী তার শিল্প সত্তা ও বিভক্তির মাধ্যমে দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে পৌঁছে যান আপনার ক্ষেত্রেও এরকম টি হওয়া স্বাভাবিক আপনার গুণগ্রাহীদের সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?
উত্তরঃ আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি কারন তারাই আমাদের অনুপ্রেরণা। তাদের ভালো লাগাটাই আমাদের চরম পাওয়া। আমি শ্রোতাদের কাছ থেকে যথেষ্ট ভালোবাসা পেয়েছি এবং ভবিষ্যতেও আরো পাওয়ার আশা রাখছি।
প্রশ্নঃ একজন প্রকৃত গুণী শিল্পী কখনো শিল্পের সঙ্গে আপোষ করেন না, আপনার ক্ষেত্রেও যদি বড় কোন প্রলোভন এর কাছে আপনার শিল্পীসত্তাকে আপস করতে বলা হয় আপনি তখন কি করবেন?
উত্তরঃ তা আমি প্রত্যাখ্যান করব, কারণ শিল্পীসত্তা হচ্ছে খোদার দান আর খোদার দান সব প্রলোভনের ঊর্ধ্বে। প্রশ্নঃ একজন শিল্পী না হয়ে একজন দর্শক ও শ্রোতা হিসাবে আপনার প্রিয় শিল্পীকে?
উত্তরঃ আমার প্রিয় শিল্পী হচ্ছেন, মোহাম্মদ রফি, লতা মঙ্গেশকর, মান্না দে, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিন, মেহেদি হাসান, গোলাম আলী ও নেওয়াজ মাহমুদ চৌধুরী।
প্রশ্নঃ তৃতীয় বাংলা খ্যাত লন্ডনে আপনি আপনাকে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, একজন কণ্ঠশিল্পী হিসেবে এই অর্জনের পেছনে কারো সাহায্য আপনি এই মুহূর্তে মনে করতে পারেন?
উত্তরঃ শ্রোতা-দর্শকদের সাহায্য আমার কঠিন পরিশ্রম খোদার মেহেরবানি এবং আপনাদের মত সাংবাদিকদের ভালোবাসা।
প্রশ্নঃ কি ধরনের গান গেয়ে আপনি বেশি আনন্দ পান? উত্তরঃ নজরুল গীতি, আধুনিক গান ও গজল। প্রশ্নঃ একটি অনুষ্ঠানে গান করতে আপনার প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয়, তার জন্য কি কোন সম্মানী আপনি পান বা আশা করেন?
উত্তরঃ আমার গানের জন্য সম্মানী পাই, মাঝে মধ্যে আশা করি কারণ জীবনের কঠিন সত্য যে আর্থিক সাহায্য যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছ।
প্রশ্নঃ একজন শিল্পী হিসেবে আপনি নিজেকে কতটা সার্থক মনে করেন? উত্তরঃ আমি ঠিক জানিনা এ প্রশ্নের উত্তর আমার শ্রোতা দর্শক বলতে পারবেন ভালো। তবে আমি শুধু গান করেই যাবো। ধন্যবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করবো না। আপনার শিল্পী জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি, উত্তরঃ আপনাকে ও প্রবাসবার্তা পরিবারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
