প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: ইতালি থেকে ফেরত আসা ১৪২ জনকে আশকোনা হজক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে চরম দায়িত্বহীনতা এবং সমন্বয়হীনতার নজির স্থাপন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে বিভিন্ন দফতর থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য জানানো হয়েছে। মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন ভবনে এ নিয়ে মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন করা হয়। সে সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে বিফ্রিং থেকে উঠে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রীর এমন আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এভাবে সাংবাদিকদের কেনো ডেকে আনা হলো? জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ‘আমার যা বলার বলে দিয়েছি’ বলে হেঁটে চলে যান।
কোভিড-১৯ নিয়ে শুরু থেকেই প্রতিদিন দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে আসছে জাতীয় রোগতত্ত্ব,রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। আজ নিয়ম মাফিক সেখানে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয় যথাসময়ে।
সেখানে ইতালি থেকে আসা ১৪২ জনের বিষয়ে জানাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘তারা আজ (শনিবার) সকালেই এসেছেন। আসার পরেই তাদের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। উচ্চ তাপমাত্রা কারও ছিল না। সেই দিক থেকে এই মুহূর্তে তাদের কোনও লক্ষন-উপসর্গ নেই।
তবে যেহেতু একসঙ্গে একটি বড় গ্রুপ এসেছে, তাই তাদের হজক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। তার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেওয়া হবে।’
তিনি যখন এসব জানাচ্ছিলেন তার এক মিনিট পরেই দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার কাছ থেকে বার্তা আসে, ইতালিফেরত ১৪২ জনের সবাইকে রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ঠিক তার আগেই ১২টা ২৭ মিনিটে ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. মঈনুল আহসান বার্তা দিয়ে জানান, ইতালি ফেরত কেউ করোনায় আক্রান্ত না। ওই বার্তাতে বলা হয়, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং তথ্য সংগ্রহ করে যার যার ঠিকানায় পাঠানো হবে। ক্যাম্পে রাখার প্রয়োজন হবে না। স্ব স্ব এলাকার স্বাস্থ্য অফিসার তাদের খোঁজখবর রাখবেন। তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এদিকে, আইইডিসিআরের সংবাদ সম্মেলনে শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়,মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে সাংবাদিকরা জড়ো হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১৪২ জনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ ফ্লাইট বন্ধ করবে কিনা, স্কুল-কলেজ বন্ধ হবে কিনা, দেশ করোনার ঝুঁকিতে কিনা– এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর না দিয়ে চেয়ার ছেড়ে উঠে চলে যান।
তার আগে মন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। চিকিৎসক-নার্সসহ অন্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯-এর জন্য গঠিত কমিটি কাজ করছে। কোয়ারেন্টাইনে যারা থাকবেন তারা যদি তথ্য গোপন করেন তাহলে সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
১৪২ জন ছাড়াও আজ বিকালে আরও ৪৩ জন এবং আগামীকাল ১৫০ জন ইতালি থেকে আসবেন। তাদের পরীক্ষা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন,‘পরীক্ষা করে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।’ কিন্তু দেশে ইতোমধ্যেই যারা এসেছেন তারা নিয়মমাফিক হোম কোয়ারাইন্টাইনে থাকছেন না।
আপনার জেলা মানিকগঞ্জেই এমন ঘুরে বেড়ানো লোকের কথা গণমাধ্যমে এসেছে। তাই এটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল না? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এছাড়া কোনও উপায় নেই। আর এটা এখন দেশে খুব ভালোভাবেই পালিত হচ্ছে।’
বিভিন্ন দেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ আসছে,তাদের ঢাকায় রাখার সুযোগ নেই, মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তাই একমাত্র সুযোগ হোম কোয়ারেন্টাইনের। তাদের হোম কোয়ারাইন্টানে রাখা মুখে বলা যতটা সহজ, সেটা বাস্তবে তত সহজ না।’ সাংবাদিকদের বলেন তিনি।
কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে বাংলাদেশ আড়াই মাসের মতো সময় পেয়েছে। এতদিনেও কেনও কোনও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করার মতো ব্যবস্থা করতে পারলো না বাংলাদেশ, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থা তো হয়েছেই। হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা হয়েছে।
গত দুই মাস ধরে আমরা হোম কোয়ারেন্টাইনের যে ব্যবস্থা নিয়েছি সেটা কোনও দেশই নেয়নি।’ বাংলাদেশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী চেয়ার ছেড়ে উঠে যান।
নেপাল, ভুটান, ভারতের মতো দেশ কোভিড-১৯ আক্রান্ত অনেক দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কেন তা করতে পারছি না, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।’
আজ সকালে যারা এসেছেন তাদের অনেকের লাগেজ পরিবারের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে লাগেজ থেকেও তার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হতে পারে, মন্তব্য করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লাগেজ থেকে অতোটা কন্ট্রামিনেশন হয় না। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা ছিল ভীষণভাবে।
