প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ আরও অনেকে।
সোমবার (১৫ জুন) পৃথক পৃথক শোক বার্তায় সকলে দুঃখ প্রকাশ করে মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের সভাপতি মিশফাক আহমেদ চৌধুরী মিশু ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত এক বিবৃতিতে নাট্য ও সংস্কৃতি কর্মীদের প্রিয়জন বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সত্যিকারার্থে মাটি ও মানুষের প্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি সিলেটের নাট্য ও সংস্কৃতি চর্চার সাথে নিজেকে সবসময় সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি সিলেট পৌরসভা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে সারদাহলের পাশে সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন নাট্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
তারা বলেন, একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদ হওয়াস্বত্তে¡ও তিনি মনেপ্রাণে নিজেকে একজন সংস্কৃতিকর্মী মনে করতেন। তিনি ২০০০ সালে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ, সিলেট ও সিলেট পৌরসভার যৌথ আয়োজনে তৎকালীন সময়ে বহুল আলোচিত পাগলাগারদ নাটকে অভিনয় করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তিনি তাঁর কন্ঠে পছন্দের কিছু গান করতেন। তারা বলেন, সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট একজন প্রিয় ও বিশ্বস্থ অভিভাবককে হারালো। এ ক্ষতি কখনই পূরণ হবার নয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব।
এক শোকবার্তায় ক্লাবের সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ ও সাধারণ সম্পাদক শাহ্ দিদার আলম নবেল বলেন, কামরান ছিলেন সিলেটের মাটি ও মানুষের নেতা। নগরপিতা হিসেবে সাবেক হলেও তিনি নগরবাসীর কাছ থেকে সরে যান নি। একজন অভিভাবকের মতো তিনি সবসময় ছিলেন নগরবাসীর পাশে। সুখে-দু:খে পাশে থেকে তিনি সিলেটের মানুষকে আপন করে নিয়েছিলেন। তিনি আমৃত্যু মানুষের সেবা করে গেছেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন গণমাধ্যমবান্ধব নেতা। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ছিল হৃাদিক সম্পর্ক। সুসময়ে-দু:সময়ে তিনি সবসময় সাংবাদিকদের পাশে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে সিলেট নগরবাসী যেমন তাদের একজন অভিভাবক হারিয়েছে তেমনি সিলেটের সাংবাদিকরাও একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটের নেতৃত্বে যে শূণ্যতা সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হবার নয়।
নগরীর চালিবন্দরস্থ বসন্ত মেমোরিয়াল স্কুলের (বিশিকা) পরিচালনা কমিটির সভাপতি সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃতুতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মিসেস অপর্ণা চন্দ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শোক প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি (বিএসপিএ) সিলেট শাখা। এক শোক বার্তায় সভাপতি মান্না চৌধুরী ও সাধরণ সম্পাদক আহবাব মোস্তফা খান বলেন, ‘কামরান শুধু জন প্রিয় রাজনীতিবিদ কিংবা জনপ্রতিনিধি ছিলেন না।
তিনি ছিলেন সকল সেক্টরের মানুষের কাছে এক প্রিয়নাম। তার সরব পদচারনা ছিলো ক্রীড়াঙ্গনেও। ক্রীড়া লেখক হিসেবেও ছিলো তার পরিচিতি। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি সিলেটের যাত্রা যখন শুরু হয়, তখন তিনিও ছিলেন অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। তাই আজ তার মৃত্যুতে ক্রীড়া লেখক সমিতির সদস্যরা গভীর শূন্যতা অনুভব করছে।’
সিলেটের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যরির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ (এসএমসিসিআই) এর নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১৫ জুন) এক বিবৃতিতে এসএমসিসিআই’র সভাপতি আফজাল রশিদ চৌধুরী, ১ম সহ সভাপতি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সহ সভাপতি মাওলানা খায়ারুল হোসেন বিবৃতিতে বলেন, কামরানের মৃত্যুতে সিলেটবাসী আওয়ামী লীগের আরো একজন অভিভাবককে হারালো-যার ক্ষত কখনোই পুরণ হবার নয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সিলেট সিটি কপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র জননেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে সিলেট জেলা হিউম্যান হলার চালক শ্রমিক ইউনিয়ন ১৩২৬ এর সভাপতি হাজী রুনু মিয়া মঈন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ইনছান আলী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ মো. মকন মিয়া।
শোক বার্তায় ব্যবসায়ী নেতা মকন মিয়া বলেন, জনমানুষের নেতা বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ায় সিলেটবাসী অভিভাবকশূণ্য হয়ে পড়লো। তার এই শূণ্যস্থান কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছিলেন সিলেটের মাটি ও মানুষের প্রিয় নেতা ও অভিভাবক।
তিনি সিলেটের মানুষের সুখে-দুঃখে সবার আগে থাকতেন। বদরউদ্দিন আহমদ কামরান সবসময় দরিদ্র মানুষের সমস্যা নিয়ে এগিয়ে আসতেন। সিলেটের সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন একজন সম্মুখযোদ্ধা। তিনি আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের সকল সমস্যায় পাশে ছিলেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রাক্তন মেয়র, জননেতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন মহালয়া উদযাপন পরিষদ শ্রীহট্টের নেতৃবৃন্দ।
এক শোকবার্তায় সিলেটের এই ত্যাগী মহান নেতার মৃত্যুতে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা কখনো পূরণ হবার নয়। শ্রীহট্টমাতার এই কৃতি সন্তানের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা দুঃখিত। নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন তার স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে আজীবন।
রোববার (১৪ জুন) দিনগত রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এর আগে গত ০৫ জুন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে কামরানের শরীরে করোনা ভাইরাসের শনাক্ত হয়।
বি এন পি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হকের শোক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ হক। মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
এক শোক বার্তায় বিএনপির সাবেক সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ¦ এম এ হক বলেন, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

আদর্শিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে তিনি ছিলেন সজ্জন রাজনীতিবিদ। সিলেটে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তার অবদান ছিল অপরিসীম। তার মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন গুনী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। যা সহজে পূরণ হবার নয়। আল্লাহ তাকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন ও পরিবারবর্গকে এই শোক সইবার শক্তি দিন। আমীন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সিলেট জেলা বিএনপির শোক
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার।
সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। শোক বার্তায় কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক বৈরিতার এই দুঃসময়ে ব্যক্তি কামরান ছিলেন সিলেটের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিত্ব করে নগরবাসীর হৃদয়ে ঠাই করে নিয়েছেন। তার মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন সিলেটবান্ধব জনপ্রিয় নেতাকে হারালো, যা সহজে পূরণ হবার নয়।
তিনি বলেন, কামরানের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন ও পরিবারবর্গকে এই শোক সইবার শক্তি দিন। আমীন।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে কামরানের মরদেহ নিয়ে সিলেটের পথে রওনা হন তার পরিবারের সদস্যরা। বেলা সোয়া ১২টার দিকে তার ছড়ারপারস্থ বাসায় এসে লাশ পৌঁছায়।
দুই দফা জানাজা শেষে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাকে নগরীর মানিকপীর টিলায় মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা দুইবারের মেয়র কামরান গত ৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শরীর আরও খারাপ হলে ৭ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৮ জুন কামরানের শরীরে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিল।
সিলেট মহানগর বিএনপির শোক
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তারা। শোক বার্তায় সিলেট মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসাইন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম সিদ্দিকী বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকালে বদর উদ্দিন কামরান ছিলেন রাজনৈতিক সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত। তিনি দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিত্ব করার সুবাদে নগরবাসীকে নিরলস সেবা দিয়েছেন। অমায়িক ব্যবহার, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি জনতার হৃদয়ে ঠাই করে নিয়েছেন। তার মৃত্যুতে সিলেটবাসী একজন সজ্জন রাজনীতিবিদকে হারালো, যা সহজে পূরণ হবার নয়। সাবেক মেয়র কামরানের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন ও পরিবারবর্গকে এই শোক সইবার শক্তি দিন, আমিন।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৭টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে কামরানের মরদেহ নিয়ে সিলেটের পথে রওনা হন তার পরিবারের সদস্যরা। বেলা সোয়া ১২টার দিকে তার ছড়ারপারস্থ বাসায় এসে লাশ পৌঁছায়।
দুই দফা জানাজা শেষে বেলা ২টা ৪০ মিনিটে তাকে নগরীর মানিকপীর টিলায় মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের টানা দুইবারের মেয়র কামরান গত ৫ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শরীর আরও খারাপ হলে ৭ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৮ জুন কামরানের শরীরে প্লাজমা থেরাপিও দেওয়া হয়েছিলে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান শোকবাণী দিয়েছেন।

আজ সোমবার দেয়া শোকবাণীতে তিনি বলেন, বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে সিলেটবাসী তাদের কাছের স্বজন, প্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও গ্রহণযোগ্য এক জনপ্রতিনিধিকে হারালো। এমন ব্যক্তিত্বের চিরবিদায় নিঃসন্দেহে সিলেটবাসীর জন্য এক বেদনার দিন, শোকের দিন।
তিনি বলেন, সিলেটে সব সময়ই সম্প্রীতির রাজনীতি বহমান। দেশের রাজীনিতিতে যখন চরম বৈরীভাব বিরাজ করে, তখনো সিলেটে রাজনীতির আকাশে সম্প্রীতির সুবাতাস বয়ে যায়। যখনই কোনো সমস্যা, দুর্যোগ বয়ে যায়, তখনই এক টেবিলে বসে সমাধানের পথ বের হয়। আর তা সম্ভব হতো কামরানের মতো ভদ্র, উদার, বিনয়ী ও বন্ধুসুলভ কিছু মানুষের জন্য। আজ তিনি নেই। কামরান এমন একজন জনপ্রতিনিধি ছিলেন যার কাছে দল-মত নির্বিশেষে সবার দুয়ার ছিলো খোলা দোয়া করি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ভালো কাজগুলোকে গ্রহণ করে তাকে ক্ষমা করে দিন।
তিনি বলেন, এই প্রিয় ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে সিলেটবাসী যেমন দুঃখ ভারাক্রান্ত, আমিও ঠিক ততটুকু ভারাক্রান্ত। আল্লাহ তায়ালা সিলেটবাসীকে এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন। তিনি কামরানের শোক-সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের শোক
সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবার্হী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাব।
সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহিত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ মকসুদ এক শোকবার্তায় বলেন, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাই ছিলেননা,তিনি ছিলেন দলমত নির্বিশেষে সিলেটের সকল শ্রেনী পেশার মানুষের এক বিশ্বস্ত ভরসাস্হল। তাঁর মৃত্যুতে সিলেটের মানুষ যেমনি তাদের একজন অবিভাবককে হারিয়েছে তেমনি সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবও একজন প্রিয় স্বজনকে হারিয়েছে।
তাঁর মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে ক্ষতি হয়েছে তাহা সহজে পূরণ হবার নয়।
নেতৃবৃন্দ মরহুমের কর্মময় জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবার পরিজন সহ সকলের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
সাবেক মেয়র কামরানের ইন্তেকালে বদরুজ্জামান সেলিমের শোক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।

এক শোক বার্তায় বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বদরুজ্জামান সেলিম বলেন, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ ছিলেন সিলেটের রাজনৈতিক সম্প্রীতির রক্ষার অগ্রসৈনিক। দলীয় রাজনীতির বাইরে গিয়ে সিলেটবাসীর হৃদয়ে ঠাই করে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে সিলেটবাসী অভিভাবকতুল্য একজন গুনী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। যা সহজে পূরণ হবার নয়। জননেতা কামরানের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন ও পরিবারবর্গকে এই শোক সইবার শক্তি দিন। আমীন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
