আমি শুধু লেখালেখি করি না। মাঝেমধ্যে ছায়াছবি, নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করে থাকি। সেগুলার অনেকটা ইচ্ছায়, অনেকটা অনিচ্ছায় আবার কখনো আকস্মিকভাবে হয়ে থাকে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, একটি ইংরেজি ফিল্ম ও একটি বাংলা শর্ট ফিল্ম। এখানে বলে নেওয়া ভাল যে, আমি বিভিন্ন সভা সমাবেশে উপস্থাপনা, ফুটবল খেলায় ধারাবিবরনী ও রেপারী হিসাবে কাজ করেছি। যার ফলে আমার জীবন বৈচিত্রপূর্ণ হয়ে আছে।
স্কুল জীবনে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছি। তবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সদ্য স্বাধীন দেশে ১৯৭২ সালের প্রথম স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ এর একটি নাটক। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ নাটকটি রচনা করেন আমাদের স্কুলের বি,কম স্যার জনাব আব্দুল মান্নান। আমার সেই সময়ের স্কুল জীবন সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামিশি হাইস্কুলে অনুষ্ঠিত এ নাটকে আমি মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার হিসাবে অভিনয় করি।

আমার নাম ছিল ক্যা্েটন রফিক। আর আমি ছিলাম মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডারের ভুমিকায়। যুদ্ধের সময় আমার বোনকে পাকসেনারা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। আর অমনি আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে বন্ধুক দিয়ে সবাইকে ব্রাশ ফায়ার করি। এ দৃশ্যটি ছিল নাটকের শেষ পর্যায়ে। আমার এখনও স্মরণ আছে যে, এ ব্রাশ ফায়ার করার পর তারা যখন ধরাশায়ি হয়ে যায়।
এমতাবস্থায় অনেকটা আবেগ তাড়িত হয়ে মাঠের দর্শকরা বাঁশের বেস্টনী অতিক্রম করে আমাদের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে ও জড়িয়ে ধরে। পাশাপাশি পাকসেনাদের ভুমিকায় যারা অভিনয় করেছিল তাদের প্রতি ক্ষেপে যায় এবং মারতে উদ্যত হয়। অবশ্য স্যারদের হস্তক্ষেপে সেটি তখন রক্ষা হয়েছিল। সে আবেগ তাড়িত হওয়ার একটা অন্যতম কারণ ছিল, সে এলাকায় পাঞ্জাবিরা হত্যাকান্ড চালানোর পর গ্রামের ও বাজারের বিরাট ক্ষতিসাধন করে।

এরপর আমি বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর এন ইউ হাইস্কুলে স্কুলে শিক্ষকতায় থাকাকালীনও একটি নাটকে অংশ নেই। তবে লন্ডনে আসার পর একটি নাটকে সাংবাদিক হিসাবে ভূমিকার মূল বিষয় ছিল, দেশ থেকে যুক্তরাজ্য সফরে আসা এক রাজনৈতিক নেতাকে প্রবাসীদের সম্পর্কের নানা প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা।
নাটকটি দেখে অনেকে অনুমান করতে পারছিলেন না যে, আমি সত্যি অভিনয় করছি না বাস্তবে কোন প্রেস কনফারেন্সে সেই নেতাকে প্রশ্ন করছি।
কারণ প্রেসক্লাবসহ নানা প্রেস কনফারেন্স এর সংবাদে তারা আমাকে টেলিভিশনে বিভিন্ন সময় দেখে থাকেন। নাটকটি প্রচারের পর অনেকে আমাকে এই নেতার নাম এবং কোন এলাকার এমপি তাও জানতে চেয়েছিলেন। তাদের অনেকে ধারণা করাতে পারেননি যে, এটা ছিল নাটকের চরিত্রের অভিনয়কৃত সাংবাদিক ও এমপির ভূমিকা।
এরপর মিনহাজ কিবরিয়া পরিচালিত ও নির্দেশনায় “বাংলা টাউনে বাংলা প্রেম” নাটকে আমি অভিনয় করি। তখনও আমার একই অবস্থা হয়। এ নাটকটি ছিল ‘স্কাই বাংলা নামক একটি টেলিভিশনের মালিক হিসাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। এতে যারা বিভিন্নভাবে কাজ করেন তারা একে অন্যকে কিভাবে যোগ্যতা থাকা সত্বেও বঞ্চিত করেন ও শুধু আশ্বাস দিয়ে তাদের চাকরের মত খাটান সে গুলি অবলোকন করা।
সাথে সাথে এর মধ্যে সুন্দরী মহিলাদের সাথে আড়ালে আড়ালে প্রেমলীলা চলানো ও কাজে ফাঁকি দেয়ার প্রচেষ্টার বিষয়টিও আমাকে খেয়াল রাখতে হতো। তা ছাড়া অনেক সময় মালিকের অনুপস্থিতিতে কেউ কেউ টিভির নাম ভাঙিয়ে স্বার্থ উদ্ধার করে থাকার প্রচেষ্টাও দেখভাল করতে হতো। এ নাটকটি প্রচারিত হওয়র পর আমাকে অনেকে সে টিভিটি কখন শুরু হলো এবং কিভাবে তা দেখা যায় সে ব্যাপারে জানতে চান। আসলে এটা ছিল একটা ‘কাল্পনিক নামমাত্র টিভি’ এবং এর কোন বাস্তবভিত্তিক অবস্থান ছিল না।
