সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনের অগ্রসেনা ম. আ. মুকতাদির – মাহবুব রহমান


দুরন্ত এক যুবক। কখনো মোটরসাইকেলে। কখনো পায়ে হাঁটা। কখনো রিক্সায় তাঁকে দেখা যেতো । সময়টাও অস্থিরতার ছিলো। সব সময়ই দেখা যেত ত্রস্ত ব্যস্ত। শহরের নানা পাড়া মহল্লায় তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল। খ্যাত এবং স্বল্প খ্যাত ব্যক্তিদের বাসায় মাঝেমধ্যেই চলে যেতেন। কুশলাদি জানতে, খবর নিতে, নিজের অবস্থা জানাতে।

অনেক রাত নির্ঘুম থেকেছেন। অনেক সময় জীবন বাজি রেখেছেন। সমাজতন্ত্রের আন্দোলনকে এ অঞ্চলে জিইয়ে রাখার প্রয়াস চালিয়েছেন। এসব বিষয়ে আপডেট দিতে প্রায়ই শহরের নানা ব্যক্তির বাসায় বৈঠক বসতো।

অনেক সময় এমনিই চলে যেতেন, শহরের নানা জনের সাথে দেখা করতে। এমন যেয়ে, মানুষের সাথে একটা ভালবাসার সংযোগ সৃষ্টি করে রেখেছিলেন। সিলেটের সকল বয়স, শ্রেণি, পেশা এবং সর্বস্তরের মানুষের সাথে তাই তাঁর একটা আলাদা কানেকশন ছিল।

আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি। মানুষের সাথে তাঁর মিথষ্ক্রিয়ার বিস্ময়কর সব নমুনা। দেখেছি মানুষ তাঁকে ভালবেসেছে। সেসব মানুষজন কি তাকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের বাহক হওয়ার কারনে ভালবাসতো। এমন মনে হয়নি। বরং স্পষ্ট বুঝা যেত যে, মানুষ তাকে তাঁর ব্যক্তি গুণাবলীর জন্য ভালবাসত। একজন খুব ভালো সংগঠক ছিলেন তিনি।

সিলেটের বিভিন্ন কলেজে, এমনকি পাড়ায় পাড়ায় অনুসন্ধান করতেন। তেজী এবং সম্ভাবনাময় তরুনদের নিজ দলে ভিড়াতেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ব্যবহার করে, স্থানীয় এবং নানা কলেজ সংসদের নির্বাচনে ফলাফল নিজ দলের অনুকূলে নিয়ে যাবারও প্রমান রেখেছেন।

জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভা, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার অপরাজনীতি, সাত্তারের অপশাসন, এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধের কোর্টপয়েন্ট, বন্দর বাজার পয়েন্ট অথবা রেজিষ্টারী মাঠে পথসভা ও জনসভায় জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে যারা রাজনৈতিক অঙ্গন মাতিয়ে রেখেছিলেন, ম. আ. মুকতাদির তাদের অন্যতম।


একাত্তরে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেয়া একজন কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তিনি।  ১৪ সেপ্টেম্বর ছিল ম. আ. মুকতাদিরের মৃত্যু বার্ষিকী। তেইশ বছর আগে বড় অকালে, মাত্র ৪৪ বছর বয়সে, পৃথিবীর সব সংযোগ ত্যাগ করেন এই বিপ্লবী নেতা। ১৯৯৭ সালের এ দিনটিতে মুকতাদির ভাই লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করার সময় স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রেখে গিয়েছিলেন।

মর্মান্তিক ভাবে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বড় ছেলে রাহাতের এক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়।
ম. আ. মুকতাদিরকে নিয়ে অনেকে লিখেছেন দেখে ভালো লেগেছে। নিজেও লিখেছি, ভবিষ্যতে আরো লেখা হবে।

ম. আ. মুকতাদির আমাদের নেতা ছিলেন। আমরা যারা সত্তর এবং আশির দশকের বছরগুলোতে সিলেট শহর, শহরতলীতে জন্ম নিয়েছি, বড় হয়েছি, তাদের অনেকের রাজনীতির হাতেকড়ি তাঁর কাছে। অনেকে রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছেন, তবে সামাজিক ভাবে ম. আ. মুকতাদিরকে তাদের আদর্শ মেনেছেন।

স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে আমাদের নগরীর চেগুয়েভারা ম আ মুকতাদিরের জন্মদিনে, তাঁর এই বিল্পবী জীবনকে আজ উদযাপন করতে চাই। এ উদযাপনে তাঁর এবং আমাদের সকল সথীর্তরা যেন যুক্ত হন এ আহবান করছি! আমাদের অহর্ণিশ ভালোবাসায় এক অতৃপ্ত বিপ্লবীকে স্মরণ করবো। যে আমাদের যৌবনকে আন্দোলিত করে দিয়েছিলেন। মানুষের মুক্তির আকুতি আর সমাজের বৈষম্য দূর করার জন্য যিনি বস্তুবাদের ধারনাকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। আমাদের চর্চায় আর আচরণে এ ধারনা শানিত থাক। আজকের এ দিনটিতে আমরা এমনটাই কামনা করি।

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *