সিলেট এয়ারপোর্টে প্রবাসীর টাকা চুরি, ফ্লাইট বাতিলের হুমকি দিলেন কর্মকর্তারা


প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরে চেকিংয়ের সময় এক প্রবাসীর মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা গত দুই দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রবাসীসহ বিভিন্ন মহল। গত ১ জানুয়ারি দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

কানাইঘটের ব্রাক্ষণগ্রামের মো. মাছুম উদ্দিন  দুবাই যাচ্ছিলেন গত ১ জানুয়ারি। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমান (বিজি ০৪৭)এর একটি ফ্লাইটে ঢাকা হয়ে তিনি দুবাই যাওয়ার সময় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে চেকিং করা হচ্ছিল।

এ সময় মোবাইল, মানিব্যাগ ও হাতের ব্যাগ স্ক্যানিং মেশিনে রেখে তিনি সামনের দিকে যাচ্ছিলেন। পেছনে তাকাতেই তিনি দেখতে পান পারভিন নামের  একজন মহিলা আনসার সদস্য মানিব্যাগ হাতে নিয়ে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আবার রেখে দিয়েছেন। চেকিং শেষে সবকিছু ফিরে পেলেও তখন মানিব্যাগ চেক করে প্রবাসী মাছুম দেখতে পান ৭০০ দিরহাম  খোয়া! যা বাংলাদেশী টাকায় ১৭০০০ হাজার টাকার মত হবে।

প্রবাসী মাছুম মূহুর্তেই এয়ারপোর্টের কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে তারা বলেন, যাত্রীর নাকি কোথাও ভুল হচ্ছে, এই মেয়েটা এমন করতে পারে না। তারা আরো বলেন, উপর মহলের নির্দেশ ছাড়া মেয়েটিকে চেক করা যাবে না। তাছাড়া আনসার মহিলার উপর অভিযোগ করায় ওই প্রবাসীর ফ্লাইট বাতিল কিংবা শাস্তিও হতে পারে বলে এমন হুমকি দেন কর্মকর্তারা।

কিন্তু দুবাই প্রবাসী মাসুম অনড় অবস্থানে থেকে সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখাতে বলেন। প্রথমে তারা রাজী না হলেও পরে দু’জন আনসার সদস্য নিয়ে যাওয়ায় হয় সিসি ক্যামেরা রুমে। তারা মালামাল রিসিভের পাশের ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখালেও, যেখানে চুরি হয়েছে সে ক্যামেরা দেখানো হয়নি। এতে খোয়া যাওয়া টাকা মিলেনি।

সিলেট এয়ারপোর্টের সিকিউরিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। অধিকতর তদন্তের জন্য কাস্টমসের আন্ডারে যেসব ক্যামেরা রয়েছে আগামীকাল রবিবার চেক করা হবে। ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফ্লাইটের সময় একবারে নিকটে চলে আসায় মাছুম ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার সময় এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ ওই প্রবাসীর ভাইয়ের ফোন নাম্বার রাখেন। যদি টাকা পাওয়া যায় তাহলে ফেরত দেয়া হবে, এজন্য এই ফোন নাম্বার রাখা হয়। কিন্তু ৩ দিন পার হয়ে গেলেও এ বিষয় নিয়ে তাকে কিছু জানানো হয়নি।

প্রবাসী মাসুম তার ফেসবুকে লিখেছেন, দুঃখ লাগে কেবল এটা ভেবে যে, নিজের চিরচেনা সিলেট এয়ারপোর্টে দিনে-দুপুরে যাদেরকে সরকার জনগণের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিয়োগ করলো, তারাই চুরির মতো জঘণ্য কাজ করতে পারলো? আর কেমন করে তার সিনিয়ররা চোরের পক্ষে সাফাই গেয়ে গেলো?

আমি আইনী প্রক্রিয়ায় এর শেষ দেখতে চাই। জাতির বিবেক সাংবাদিক সমাজসহ সকলের পরামর্শ চাই।

সিলেটভিউ২৪.কম


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *