প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্ক :: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্মানধীন খোলা ড্রেনে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বিশিষ্ট কবি, ছড়াকার ও সাবেক শিক্ষক নেতা আব্দুল বাসিত মোহাম্মদ। সিসিকের অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে মারাত্বক আহত হয়ে দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন সিলেটের প্রিয় মুখ কবি বাসিত।
বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে এবং দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আম্বরখানার হুরায়রা ম্যানশনের সামনে সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্মাণাধীন ড্রেনে পড়ে কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদের পেটের মধ্যে রড ঢুকে যায়। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুদিন এমএজি ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান।
তাঁর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন তার অনুরাগী ও সচেতনমহল।
তারা বলছেন, তার মৃত্যুর জন্য নগরীর উন্নয়নের নামে সিসিকের অপরিকল্পিত কর্মকান্ড-এবং খামখেয়ালিপনাই শুধু দায়ী নয়, রীতিমতো তাকে হত্যা করেছে সিসিক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে শোক ও সমালোচনা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সমন্বয়ক আবদুল করিম কিম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন : সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে কবি আবদুল বাসিত মোহাম্মদ মৃত্যুবরণ করেছেন। কবি বাসিত প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করেতেন। তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়।এমন মৃত্যু কারও জন্য কাম্য নয়। জনমনে প্রশ্ন- এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? অবশ্যই এই মৃত্যুর দায় সিলেট সিটি করপোরেশনকে নিতে হবে। মহানগরের উন্নয়ন কাজে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী না রেখে এমন উন্মুক্ত ড্রেনের হোল ফেলে রাখা হয়েছে।
ইতিপূর্বে নয়াসড়ক মসজিদের মিনার ভাঙার সময়ে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না রেখে অদক্ষ হাতে মিনার ভাঙার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় দেখা গেছে সেখানে কী ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যবশত প্রাণহানি ঘটেনি কিন্তু কয়েকজন আহত হয়েছিল। যারা আহত হয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল কিনা জানি না। কিন্তু কবি আবদুল বাসিতের পরিবারকে অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক। পাশাপাশি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ঠিকাদার, সুপারভাইজারসহ দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা আসলে হতবাক। এতটা উদাসীন কীভাবে হতে পারে নগর কর্তৃপক্ষ?
দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে এসব খোঁড়াখুঁড়ি। করোনার সময় ধুলার জন্যও মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এখন এই মৃত্যু। হয়তো তাদের কাছে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে এমন অরাজকতা আমাদের হতবাক করেছে। নগরীর কোথায় কোনো কাছে কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। আবদুল বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সিসিক এই দায় এড়াতে পারে না। নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্কিত। এ বিষয়ে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। খোলা ড্রেনগুলোর ব্যাপারেও সুরক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে
