হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও দেশ প্রেম রক্ষার্থে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের সবার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানিয়ে আমার চলমান লেখার সূচনা –
কালের চিরন্তন গতিধারায় মহাকালের অতল গর্ভে তলিয়ে গেছে শত বসন্তের হাজারো পাতা। সুদীর্ঘ ৪৮ বছর অতিক্রম করে আমাদের মাঝে ফিরে এল ১৯৭১ সালের মার্চ মাস। এই বিষাদ, স্বকরুন,বেদনাদায়ক মাসটি আমাদের বাংগালী জাতির গভীর সমবেদনার মাস। এ মার্চ মাসে লক্ষ লক্ষ বাঙ্গালী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়ে ছিল।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ দেশের মহা দুর্দিনে দেশ প্রেম ও দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের সুখের জন্য, কল্যাণের জন্য, নিরাপত্তার জন্য ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় রাষ্ট্র নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন –
রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আর দেব
এ দেশকে,দেশের মানুষকে স্বাধীন করে ছাড়ব।
ইনশাল্লাহ।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম বর্বর আক্রমনে নিরহ বাংলার গণমানুষের তাজা রক্তে ঢাকার রাজপথ রক্তে প্লাবিত হয়ে রক্তের স্রোতধারা বুড়িগঙ্গা নদীতে পরিনত হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি শহিদদের রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল।
সেদিন ঢাকা রায়ের বাজার,পুরান ঢাকা,রাজার গলি,মতিঝিল, ধানমন্ডি, পিলখানা,ফার্মগেট ও ঢাকার আনাছে কানাছে হাজার হাজার গুলিবিদ্ধ লাশ আর লাশের স্তুপ মাটিতে পড়ে রয়েছিল। পাক হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুর নিরবতায় চারদিকে লাশের গন্ধ আর স্বজন হারানোর সমবেদনা আকাশ বাতাস বিশ্বের ইতিহাসে নির্মম সাক্ষী হয়ে রয়েছিলো।
১৯৭১ সালের ১৫ ই আগস্ট ভয়াবহ কাল রাত্রিতে স্বাধীন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার পরিজনকে নির্মম ভাবে স্বাধীনতা বিরোধী নরপশু ঘাতকরা নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল। সেই হত্যার সাথে যারা জড়িত ছিল মহান অন্তরযামী আল্লাহর দৃষ্টিতে চিরন্তন সত্যের বাস্তবায়ন হিসাবে ৪৮ টি বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়েছে।
সে জন্য দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি জানাই প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অভিনন্দন। সেদিন ছিল ১৯৯১ সাল রবিবার ব্যাক্তিগত কাজে গিয়েছিলাম ঢাকায় রয়েছিলাম ফকিরাপুল ইসলাম হোটেলে। সময়ের গতিতে কিছু মুহূর্ত ও সময় অবসর ছিল।
ভাবলাম ধানমন্ডির ৩২ নং বাসায় সংরক্ষিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরটি দেখে আসি। সাথে ছিল আমার মামাতো ভাই বাবুল। তাই রিস্কায় সেদিন বিকাল বেলায় চলে গেলাম বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরটি পরিদর্শন করতে। সেদিন বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার হত্যার রক্তাক্ত স্মৃতিদৃশ্য দেখে আমার আবেগ প্রবণ মনের ভাষা, লিখিনির ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম।
যাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলেছিলেন আপনারা সুদুর সুনামগঞ্জ থেকে এসেছেন বঙ্গবন্ধুর ভক্ত হিসাবে। তাই আপনার কিছু মন্তব্য বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ডাইরির পাতায় লিখে যান।সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ডাইরির পাতায় লিখেছিলাম।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ রাস্ট্রনায়ক বাংলা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবার পরিজনকে যারা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে সেই নরঘাতক হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার সোনার বাংলার মাটিতে করা হোক। আমার লিখিনীর বাস্তবতায় ন্যায্য বিচার হয়েছে। সে জন্য নিজের আবেগময় লেখাকে ধন্য মনে করছি – কবির ভাষায় বলতে হলো-
যতকাল বহে রবে
পদ্মা, মেঘনা, গৌরীর বহমান।
ততকাল রবে কৃর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম রাষ্ট্র দেশের জন সমাজকে উপহার দিয়ে গেছেন।
আবার ও কবির ভাষায় বলতে হলো –
উদয়ের পথে শুনি কার বাণী,
‘ভয় নাই, ওরে ভয় নাই-
নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’
বঙ্গবন্ধু আর আমাদের বাঙ্গালী জাতির মধ্যে নেই। কিন্তু তার গড়া সোনার বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি স্মৃতিদৃশ্য বাংলার গণ মানুষের কাছে বর্তমান ও অনাগত প্রজন্মের কাছে যুগ যুগান্তর চিরস্মরণীয়, চির অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে চির অনন্তকাল।
বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় মহাকালের চিরন্তন সাক্ষী হয়ে থাকবে তার গড়া সোনার স্বাধীন বাংলাদেশ।
শেষান্তে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য বঙ্গ কন্যা বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জীবন যাত্রা সুখ শান্তিতে ভরে উঠুক। বিশ্বের ইতিহাসে বাংলাদেশ একটি প্রগতিশীল আধুনিক ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসাবে গড়ে উঠুক।
এ কামনায়
এম.এ. গফফার
ডার্নাল, শেফিল্ড ইংল্যান্ড।
জন্মস্থান ঃ ঠাকুরভোগ, সুনামগঞ্জ
