১৫ই আগষ্টের খুনিরা এখন শেখ হাসিনার অতি নিকটে পৌঁছে গেছে । শেখ হাসিনাকে ১৯ বার হত্যার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে সেই খুনীরা কি এখন তাদের প্রচেষ্টাকে একদম পরিত্যাগ করেছে ? অবশ্যই নয়, শুরু থেকে একের পর এক যে প্রচেষ্টা তারা চালাচ্ছে , এর প্রত্যেকটি আঘাত তীব্র থেকে তীব্রতর এবং গত ২১ আগষ্ট যে গ্রেনেট হামলা এর ভয়াবহ দৃশ্য কত যে ভয়ঙ্কর এর চেয়ে আর বেশি ভয়ঙ্কর কোন হত্যাকাণ্ড বাংলার ইতিহাসে আছে বলে আমার জানা নেই ।
প্রকাশ্যে দিবালোকে সেই সময়ের ক্ষমতাশীল জামাত শিবিরের সু-পরিকল্পিত ক্রমাগত এই নগ্ন প্রচেষ্টায় যে ভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞ আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগকেও হারমানিয়েছে । আমার মনে হয় খুনীচক্রের পরবর্তী অর্থাৎ ২০তম যে আঘাত আসবে সেটা হবে আওয়ামীলীগ দলের কর্মী ও দলীনেতা হয়ে । বি এন পি জামাতের এই খুনীচক্র হয়ত সর্বশেষ এবং ২১ আগষ্টের চেয়ে আর অনেক অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হবে । বি এন পির প্রভাবশালী নেতা শামসুজ্জামান দুদু প্রকাশ্যে টকশোতে যদি বলতে পারে “শেখ হাসিনার পতন শেখ মুজিবের চেয়ে আর ভয়ঙ্কর হবে”! অন্যদিকে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘোষণা রাজাকার সন্তানরা আওয়ামীলীগ করতে পারবে । এতে পরিষ্কার সংকেত শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রচেষ্টার খুনীচক্ররা অত্যান্ত সু-পরিকল্পিত ভাবে আওয়ামীলীগে ঢুকে শেখ হাসিনার অতিকাছে চলে এসেছে ।
২১ আগষ্ট গ্রেনেট হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বি এন পির ভবিষ্যৎ কর্ণধার তারেক রহমান এখনও শেখ হাসিনাকে হত্যার নীল নকসা তৈরি অব্যাহত রেখেছে । এর প্রমাণ, এখনও তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে পারে না এমন কি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সম্মান করতে পারল না তার কাছ থেকে বাংলাদেশের মাঠিতে ভবিষ্যতে হত্যা, নৈরাজ্য আর দুর্নীতি ব্যাতিত ভাল রাজনীতি আশা করা যায় না । বি এন পির শীর্ষ স্থানীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু সহ সবাই হত্যা আর ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি পরিহার করেনি ।
ইতিহাসের পাতায় আমরা দেখেছি, ১৯৪৮ সালে ৩০ জানুয়ারি মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৯৬৩ সালের ২২শে নভেম্বর প্রেসিডেন্ট জন কেনেডিকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের মহানায়ক মারটিন লুথার কিংকে সামনে দাঁড়িয়ে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৮৪ সালের ৩১শে অক্টোবর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী তারই দুই দেহরক্ষীর গুলিতে প্রাণ হারান। ১৯৯১ সালের ২১শে মে ভারতের রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে একদম সামনা সামনি এসে আত্মঘাতী বোমা দিয়ে। ২০০৭ সালে ২৭শে ডিসেম্বর বেনজির ভুট্টোকে একদম কাছে এসে প্রথমে গুলি ও পরে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যা করে।
এই প্রত্যেকটি বড় বড় নেতাদের হত্যাকাণ্ড হয়েছে শত্রুরা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে অতিকাছে গিয়ে তাদের হত্যা প্রচেষ্টাকে সফল করেছে । ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের একদিন আগেও বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মুস্তাক বঙ্গবন্ধুর সাথে বসে চা খেয়ে এসেছে । বঙ্গবন্ধুর অতি আপনজন আওয়ামীলীগের নেতারা সেদিন অনেক দূরে ছিলেন । আওয়ামীলীগের দলীয় নেতারা সহ সাধারণ কর্মী থেকে যখন বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠত, বঙ্গবন্ধু তখন সাধারণ মানুষের ভালবাসায় এতই অন্ধ ছিলেন যে, অতি সহজেই তা উড়িয়ে দিতেন । এমন কি কোন কোন সময় দৃপ্তকণ্ঠে বলতেন, “যে বাঙ্গালী আমার ডাকে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে, যে বাঙ্গালী আমাকে পাকিস্তানের কারাগারে নির্মিত ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত করে এনেছে, সেই বাঙ্গালী কখনও শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে না” ।
শেখ হাসিনা কিন্তু একেত্রে ভিন্ন কারণ ১৫ই আগষ্টে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধুর মত সেই অন্ধ ভালবাসা পোষণ করেন না । সেই সাথে আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীরাও ৭৫ এর পট থেকে অনেক সচেতন, যার প্রমাণ ২১ আগষ্টের ভয়ংকর গ্রেনেট আক্রমণে নেতা কর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে জীবন দিয়ে শেখ হাসিনাকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখা, এর দ্বিতীয় দৃশ্য পৃথিবীর ইতিহাসে নেই।
আজ পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি রাজনীতির ছত্রছায়ায় উনার চার পাশে দিনের পর দিন যারাই কাছে আসছে, আওয়ামীলীগের লেবাস পরে তাদের মধ্যে ডুকে পড়ছে ২০তম কিলিং স্কোয়াট, জামাত বি এন পির পরিকল্পিত ২১শে আগষ্ট গ্রেনেট হামলার যুগসুত্ররা । শামসুজ্জামান দুদু ও তারেক রহমানের কথাবার্তায় কেন জানি মনে হচ্ছে অচিরেই হচ্ছে ২০তম কিলিং পরিকল্পনা কাজ শুরু । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধু বি এন পি জামাতের টার্গেট নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও রয়েছে। বর্তমান বিশ্বে গত দুই টার্মে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এটাই হয়ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বিমাতা সুলভদের চক্ষুশূল।
এখন আবার অনেকেই মনে করছেন, যে ছাত্রলীগ যুবলীগ শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড, সেই ছাত্রলীগ যুবলীগ অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির দায়ে এখন দুর্বল সুতারাং শেখ হাসিনার চার পাশের নিরাপত্তা দিন দিন দুর্বল হয়ে আসছে। আমার দৃষ্টিতে যে সকল ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতারা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ওদেরকে দল থেকে বহিস্কারের ফলে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড আর শক্তিশালী হচ্ছে, কারণ যারা যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পেয়ে অনিয়ম, উশৃংখলা আর দুর্নীতি করতে পারে, ওরাই বি এন পি জামাত শিবিরের ২০তম কিলিং স্কোয়াটের সদস্য হতে পারে, এতে কোন সন্দেহ নেই। সত্যিকারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কোন ছাত্রলীগ বা যুবলীগ কর্মী প্রয়োজনে জীবন দিবে তবু অনিয়ম, উশৃংখল ও দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে না।
সুতারাং দুর্নীতিবাজ ছাত্রলীগ যুবলীগের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার অবস্থান যত কঠোর হবে উশৃংখল ও দুর্নীতিবাজরা তত বেশি ছিটকে দূরে যাবে এতে সত্যিকারের মুজিব আদর্শের কর্মীরা শেখ হাসিনার কাছে আসার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই প্রত্যেকটি মুজিব আদর্শের সৈনিকদের একটি শ্লোগান হওয়া উচিৎঃ “শেখ হাসিনার নির্দেশ, দুর্নীতিবাজদের কর শেষ”।
