প্রবাস বার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ ডেস্কঃ ২৬ জুলাই ২০১৯, বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের নির্বাচিত সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্যায় কারাবন্দিত্বের ৫৩৪ তম দিন ।
বিগত সাংবিধানিকভাবে অবৈধ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান টার্গেট ছিল বিএনপি ও জিয়া পরিবার। বিএনপি ও জিয়া পরিবারের অভিভাবক হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে কাটাতে হয়েছে ৫৩৪ দিন। সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ কিংবা আদালতের দণ্ড ছাড়াই দীর্ঘ এ কারাজীবনে তিনি রোগভোগ ও মানসিকভাবে চরম কষ্টে থাকলেও তার আপসহীনতায় পিছু হটেছিল অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। আইনী লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়েছিলেন।
২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে তাঁকে ক্যান্টনমেন্টের মইনুল রোডের বাসভবন থেকে গ্রেফতারের পর সোজা নিয়ে যাওয়া হয় সিএমএম আদালতে। সেখানে তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগার হিসেবে ঘোষিত স্পিকারের বাসভবনে নেয়া হয়।
২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে গ্যাটকো মামলা দায়েরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ গ্রেফতারের পর থেকে শুরু হয় বেগম জিয়ার কারাজীবন। তারপর কারাগারে থাকা অবস্থায়ই তাঁর বিরুদ্ধে একে একে আরো ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।
কারাগারে থেকেই তিনি গ্যাটকো মামলাকে জরুরী বিধিতে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রীট মামলা দায়ের করেন। বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজকে নির্বাচন কমিশনের দেয়া চিঠিরও বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন। ২০০৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গ্যাটকো মামলা স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে জামিন দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি জরুরী বিধিমালায় অন্তর্ভূক্তি কেন অবৈধ হবে না, কারন দর্শাতে সরকারের প্রতি রুল জারি করে হাইকোর্ট।

ওই বছরের ১ অক্টোবর হাইকোর্টের দেয়া খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের জন্য আপীল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আপীল করে সরকারপক্ষ। ২ অক্টোবর আপীলের শুনানীতে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রেখে পরদিন ফুলকোর্টে শুনানীর দিন ধার্য করা হয়। ৩ অক্টোবর তত্কালিন প্রধান বিচারপতি মো. রুহুল আমীনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চ হাইকোর্ট বিভাগের মঞ্জুর করা জামিন স্থগিত করে দেন।
২৯ অক্টোবর বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের বাসায় তথাকথিত সংস্কারপন্থীদের বৈঠকে মেজর (অব.) হাফিজকে মহাসচিব করে গঠন করা কমিটি অবৈধ বলে অভিমত দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আইনজীবীদের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানান। ৪ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ারকে নির্বাচন কমিশনের আলোচনায় না ডাকায় হাইকোর্টে রীট করেন বিএনপির এই আপসহীন চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ৫ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে দেয়া চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেও হাইকোর্টে আরেকটি রীট করেন তিনি।
১৩ নভেম্বর খোন্দকার দেলোয়ারের পরিবর্তে মেজর (অব.) হাফিজকে সংলাপের চিঠি দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে লিগ্যাল নোটিশ দেন। ২৫ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সম্পদের হিসাব চেয়ে দুদকের দেয়া চিঠি স্থগিত করে হাইকোর্ট চিঠিটি কেন অবৈধ হবে না কারন দর্শাতে বলে সরকারকে।
২০০৭ সালের ডিসেম্বর ও ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশ চলে যাওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপ দেয়া হয়। চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে দেশেই জনগণের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আপসহীন এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
১৮ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার প্রাণপ্রিয় মা বেগম তৈয়বা মজুমদার দিনাজপুরে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তার লাশ হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। গ্রেফতারের ১৩৮ দিন পর ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মইনুল রোডের বাসায় গিয়ে মায়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
